Image description

২০২৬ এশিয়ান গেমসে শুরুতেই দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। জাপানের নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর ভারতের বেশ কয়েকজন অ্যাথলেটকে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার জন্য ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন অ্যাথলেট মেঝেতে শুয়ে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, থাকার জায়গায় নেওয়ার অপেক্ষায় বিমানবন্দরেই তাদের এভাবে সময় কাটাতে হয়েছে। শুধু ভারত নয়, ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের ক্রীড়াবিদরাও একই ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে খবর।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভারতের এমএমএ ফাইটার বরুণ সান্যাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, এটি সত্যি। আমি এখন সাত ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, সময় গড়াচ্ছেই।’

আবাসন সংকটের পাশাপাশি আয়োজকদের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও পর্যাপ্ত বিছানা না থাকা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

ভারতের অ্যাথলেটিকস দলও নাগোয়ায় পৌঁছে লজিস্টিক সমস্যার মুখে পড়ে। হোটেলে পৌঁছানোর পর ক্রীড়াবিদদের একাংশ সকালের নাশতা পাননি বলে জানা গেছে। অনুশীলনের জন্য মাঠে যাতায়াতেও তাদের দেরির মুখে পড়তে হয়েছে।

এদিকে নিবন্ধন ও অ্যাক্রেডিটেশন নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ভারতের উশু দলের কয়েকজন সদস্য জানতে পারেন, আবাসনের তালিকায় তাদের নামই নেই। অন্য কয়েকজন ক্রীড়াবিদও অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।

এবারের এশিয়ান গেমসে আবাসন ব্যবস্থাপনাও আগের আসরগুলোর তুলনায় ভিন্ন। প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাকে একটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাথলেটস ভিলেজে’ না রেখে ক্রুজ জাহাজ, বিভিন্ন হোটেল এবং অস্থায়ী কনটেইনারধাঁচের স্থাপনায় রাখা হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর আবাসন ও পরিবহন সমন্বয় করতে গিয়ে আয়োজকদের চাপে পড়তে হচ্ছে।

শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন হওয়ার কথা। তার আগেই আবাসন, পরিবহন, নিবন্ধন ও অ্যাক্রেডিটেশন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারলে আয়োজকদের জন্য চাপ আরও বাড়বে।