জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের স্মরণে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নামাঙ্কিত ‘শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড’-এর নাম বর্তমান বোর্ড প্রশাসন বাতিল করেছে- মর্মে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছিল বাস্তবে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এবার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘৫ আগস্টের পর শহীদ আবু সাঈদের সম্মানে মিরপুর স্টেডিয়ামে একটি গ্যালারির নামকরণ করেছিলাম আমরা। নতুন সরকারের অবৈধ বিসিবি প্রেসিডেন্ট সেটা অপসারণ করেছে। ধন্যবাদ নতুন সরকার, ন্যাপোকিডগণ এবং নতুন সভাপতিকে।’
এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বিসিবি স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করতে চায় যে, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বা দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে “শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড” বা অন্য কোনো স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বোর্ড নেয়নি। উল্লেখ্য যে, বিসিবির আয়োজিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট ইভেন্টগুলোতে সমস্ত অফিশিয়াল স্ট্যান্ডের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চলতি বছরের শুরুর দিকে বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসবিএনসিএস-এ তিনটি আন্তর্জাতিক সিরিজের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড’সহ সমস্ত স্ট্যান্ডের নাম ভেন্যুর ভেতরের দর্শক এবং টেলিভিশন সম্প্রচার দেখে দর্শকদের কাছে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। ম্যাচের টিকিট (ছবি সংযুক্ত) এবং ইভেন্টের প্রচারণামূলক সামগ্রীতেও স্ট্যান্ডগুলোর নাম ছিল।’
বিসিবির আয়োজিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট ইভেন্টগুলোতে সমস্ত অফিশিয়াল স্ট্যান্ডের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।বিসিবি আরও জানায়, ‘আরও উল্লেখ্য যে, এসবিএনসিএস এবং অন্যান্য ভেন্যুর স্ট্যান্ডের নাম বহনকারী সাইনবোর্ডগুলো সময়ে সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ সবসময় ম্যাচের বাইরের দিনগুলোতে করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েই বিসিবি একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছিল এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি বা অনুমানের কোনো অবকাশ নেই।’
শেষে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করে বিসিবি, ‘বিসিবি বিশ্বাস করে যে, এই নির্দিষ্ট বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য এবং মিথ্যা বিবৃতি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্য বিসিবি এবং বর্তমান বোর্ডের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা। বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এই ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার বিসিবি সংরক্ষণ করে।’