ডারউইনে বীরত্ব দেখালেও ম্যাকাইতে দেখা মিললো চিরচেনা সেই বাংলাদেশের। বল হাতে শরিফুল ইসলাম আলো ছড়ালেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় দুই দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ইনিংস ও ৫১ রানে।
চায়ের বিরতিতেই দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ হারিয়ে বসে ৮ উইকেট। তখনও প্রান্ত আগলে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই তাসকিন আহমেদকে স্মিথের ক্যাচ বানান নাথান লায়ন। তার পর এক বল বিরতি গিয়ে শরিফুলকে তুলে ৯৫ রানেই বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান অজি স্পিনার। প্রথম ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৬৪ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।
অজিদের ২১০ রানে থামিয়ে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্ক টেস্টে নিজের চতুর্থ ১০ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ করেছেন। প্যাট কামিন্সও ছিলেন দুর্দান্ত। তাদের বোলিং তোপেই চা-বিরতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ৯৫ রান! তার পর সেই স্কোরেই গুটিয়ে যাওয়া।
ব্যাট হাতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সর্বোচ্চ ৩১ রান করলেও বাজে শট সিলেকশনে লায়নের বলে ধরাশায়ী হন তিনি। লিটন দাস টানা তৃতীয়বার শূন্যতে আউট হয়েছেন। মুমিনুল হকও আউট হন শূন্যতে।
স্টার্ক এই ইনিংসে ৩৯ রানে নেন ৪টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে নেন ৬টি। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজও তিনি। প্যাট কামিন্স দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ রানে ৩টি শিকার করেছেন। অফস্পিনার লায়ন ২৫ রানে শিকার করেন ৩টি।
এরআগে শরিফুল ইসলামের গতিতে প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে পেসার শরিফুল ইসলাম বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্টে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগারের কীর্তি গড়েন। তার পরেও অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের বড় লিড নিতে সক্ষম হয়।
অস্ট্রেলিয়া দিনের খেলা শুরু করেছিল ৪০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে। স্বাগতিকদের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন, তার সঙ্গে ছিলেন টেলএন্ডার নাথান লায়ন। যিনি অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে।
দিনের প্রথম ৪৩টি বল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া কোনো উইকেট না হারিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলছিল। কিন্তু স্বাগতিকরা যখন ক্রমেই ছন্দে ফিরছিল ঠিক তখনই শরিফুল গ্রিনকে দুর্দান্ত ইনসুইং ইয়র্কারে আউট করেন। শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে ভাঙে তার প্রতিরোধ। তার পর লায়ন দুইশ ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন। তিনি ৩২ রানে অপরাজিত থাকলেও ২১০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।