ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজে গোল করেননি, কিন্তু লিওনেল মেসির দুটি পাসই বদলে দিয়েছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ফল। তার সহায়তায় এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেই পারফরম্যান্সের পর রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়েও ফেবারিট হয়ে উঠেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।
তবে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মেসির একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালরা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলেন। মেসির ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামি। প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের বাইরে খেলে কি সত্যিই ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?
নিয়ম অনুযায়ী উত্তরটি হ্যাঁ। ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত কিংবা বিজয়ী হতে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার বাধ্যবাধকতা এখন আর নেই। তবে পুরস্কারটির ইতিহাস বলছে, কাজটি মোটেও সহজ নয়।
১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ব্যালন ডি’অর চালু করার পর শুরুতে কেবল ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলাররাই পুরস্কারটির জন্য বিবেচিত হতেন। ১৯৯৫ সালে সব দেশের ফুটবলারদের জন্য দুয়ার খুললেও ইউরোপের ক্লাবে খেলার শর্ত বহাল ছিল। সেই সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হয় ২০০৭ সালে। এরপর থেকে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন।
কিন্তু নিয়ম বদলালেও বিজয়ীদের ঠিকানা বদলায়নি। ২০০৭ সালের পর অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১৮টি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে মাত্র একজন পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের খেলোয়াড় ছিলেন। সেই ফুটবলারও মেসি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে অষ্টম ব্যালন ডি’অর গ্রহণের সময় মেসি ইন্টার মায়ামিতে খেলছিলেন। ফলে ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জেতা প্রথম খেলোয়াড় হন তিনি।
তবে সেই অর্জনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাও রয়েছে। ২০২৩ সালের পুরস্কারের মূল্যায়নকালে মেসির ক্লাব ফুটবলের বড় অংশই ছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে। সঙ্গে ছিল কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার অসাধারণ পারফরম্যান্স। অর্থাৎ পুরস্কার গ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তার মূল্যায়িত মৌসুমের বড় অংশ কেটেছিল ইউরোপে। ব্যালন ডি’অরের নিজস্ব বিশ্লেষণেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের পরিস্থিতি আলাদা। ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়নকাল শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে। এই পুরো সময় মেসি খেলেছেন ইন্টার মায়ামির হয়ে। তাই এবার পুরস্কারটি জিতলে ইউরোপের বাইরের ক্লাবে পূর্ণ মৌসুম কাটিয়ে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রথম প্রকৃত নজির গড়বেন তিনি।
বিশ্বকাপও তাকে সেই ইতিহাসের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আট গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে সামনে থাকা মেসির নামের পাশে রয়েছে চারটি অ্যাসিস্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর বাজির দৌড়েও এগিয়ে তিনি।
শেষ উত্তরটি দিতে পারে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের দাবি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে স্পেন জিতলে ইয়ামাল কিংবা রদ্রির সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
ব্যালন ডি’অর জিততে তাই ইউরোপে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু দীর্ঘ ইতিহাসে যা প্রায় অসম্ভব হয়ে ছিল, নিজের শেষ বিশ্বকাপে সেটিই বদলে দেওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে মেসি।