ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অগ্নিগর্ভ সেমিফাইনাল জিতে টানা দ্বিতীয়াবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন, যারা এই বিশ্বকাপে দাপুটে ফুটবল খেলছে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়েছে। বার্সেলোনায় দীর্ঘদিন খেলার সুবাদে স্প্যানিশ ফুটবল সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা আছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির। রবিবার চেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই শিরোপা লড়াইয়ে নামবে মেসি বাহিনী।
টিওআইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে মেসি বলেন, ‘ওরা দুর্দান্ত একটি দল। চমৎকার সব খেলোয়াড় আর দারুণ ফুটবলশৈলী রয়েছে ওদের। দলটিকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। বহু বছর ধরে তাদের খেলার একটি নিজস্ব দর্শন রয়েছে। আমি তাদের খেলোয়াড়দেরও চিনি, তাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের খেলা অনুসরণ করি। বেশ কয়েকজন তো বার্সেলোনায় খেলে, যে ক্লাবকে আমি মন থেকে ভালোবাসি ও সমর্থন করি। এটি একটি বিশেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে, বিশ্বকাপের ফাইনাল। আমার মনে হয় ম্যাচটি খুবই হাড্ডাহাড্ডি হবে।’
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মেসি বলেন, ‘আমরা যেভাবে এই মুহূর্তটি উপভোগ করছি, আপনারাও ঠিক সেভাবেই এটি উপভোগ করুন। আজ আমরা আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে, আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বের সেরা দুটি দলের একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা গত চার বছর ধরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ উপভোগ করছি এবং আবারও ফাইনালে উঠেছি। যেভাবে মেতে আছেন, সেভাবেই উপভোগ করে যান। আজ আমরা যা চেয়েছিলাম তা অর্জন করেছি। একেবারে শেষ সীমানায় পৌঁছানো, বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। বাকিটা এখন ঈশ্বরের ইচ্ছা।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা আর্জেন্টিনা দল দেখিয়েছে, সেটারও ভূয়সী প্রশংসা করেন মেসি, ‘এই দলটির পারফরম্যান্স আমাকে অবাক করে না। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিক সীমার শেষ প্রান্তে এবং বিভিন্ন ইনজুরি নিয়ে খেলছিল। তাই হয়তো অনেকে সন্দেহ করেছিল যে, আমরা এতদূর আসতে পারব কি না। কিন্তু এই দল যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন তারা এক বাড়তি শক্তি পায়। তারা একে অপরকে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজেদের ভেতর থেকে এমন এক শক্তি বের করে আনে যা হয়তো তারা নিজেরাও জানত না।’