বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ঘিরে টরন্টোয় উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে লুকা মদরিচ। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক দুই সতীর্থের মুখোমুখি লড়াই শুধু নকআউট ম্যাচ নয়, তাদের একজনের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হয়ে যেতে পারে। সেই আবেগই টিকিটের বাজারে আগুন লাগিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টরন্টোর এই ম্যাচের কিছু রিসেল টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। টিকিট বেঁচা-কেনার সাইট সিটগিকে বেঞ্চের বিপরীত পাশের সাইডলাইন আসনের একটি টিকিট ৩১ হাজার ৭৯২ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি। আর সবচেয়ে কম দামের টিকিটও ২ হাজার ৪৫৩ কানাডিয়ান ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকার কাছাকাছি দেখা গেছে।
আরেক হিসাবে, রিসেলে সবচেয়ে কম দামের টিকিটের গড় মূল্য ৩ হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি প্রায় ৪ লাখ টাকা। সাধারণ ফুটবল সমর্থকের জন্য তাই ম্যাচটি মাঠে বসে দেখা অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে।
অথচ শুরুতে ফিফার মাধ্যমে টিকিটের দাম ছিল অনেক কম। কানাডার স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে টিকিটের দাম ছিল ৩৩৫ থেকে ৮৭৫ কানাডিয়ান ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি টাকায় যা আনুমানিক ২৯ হাজার থেকে ৭৬ হাজার টাকা। কিন্তু ম্যাচের গুরুত্ব, রোনালদো-মদরিচ আবেগ এবং রিসেল মার্কেটের চাপ দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
টরন্টো স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ৩৬। ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে এটিই সবচেয়ে ছোট। তাই চাহিদার তুলনায় আসনসংখ্যা কম হওয়াও টিকিটের দাম বাড়ার বড় কারণ। বিশ্বকাপে টরন্টোর শেষ ম্যাচ হওয়ায় স্থানীয় আগ্রহও আরও বেড়েছে।
টরন্টো ও অন্টারিও অঞ্চলে পর্তুগিজ ও ক্রোয়াট বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যাও অনেক। অন্টারিওতে প্রায় ১ লাখ ক্রোয়াট বংশোদ্ভূত এবং ৩ লাখের বেশি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত মানুষ আছেন। ফলে ম্যাচটি শুধু বিশ্বকাপ নকআউট নয়, স্থানীয়ভাবে দুই বড় কমিউনিটির আবেগের ম্যাচও।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য রোনালদো ও মদরিচ। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৪০ বছর বয়সী মদরিচ দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলেছেন। একসঙ্গে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, গড়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। এবার বিশ্বকাপে তারা প্রতিপক্ষ।
এই ম্যাচে হারলেই বিদায়। তাই রোনালদো অথবা মদরিচ, একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। তাদের বয়স ও ক্যারিয়ারের পর্যায় বিবেচনায় এটিই হতে পারে বিশ্বকাপে তাদের শেষ ম্যাচ। সমর্থকদের আগ্রহের বড় অংশ তৈরি হয়েছে এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই।
পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’-তে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে। ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করলেও উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়াও গ্রুপ ‘এল’-এ দ্বিতীয় হয়ে এসেছে। শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে মদরিচরা।
পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ নকআউট পর্বকে বলেছেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। তার মতে, গ্রুপ পর্ব ছিল প্রস্তুতি, এখন শুরু আসল পরীক্ষা। ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচও শুধু রোনালদো-মদরিচ লড়াই নয়, মাঝমাঠের লড়াইকেই ম্যাচের চাবিকাঠি মনে করছেন।
তবে মাঠের কৌশল যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ম্যাচের আগের গল্পের বড় অংশ এখন টিকিটের দামে আটকে গেছে। সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই দাম দেখে হতাশ। অন্টারিওতে টিকিট পুনর্বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক আইন থাকলেও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাম অনেক ওপরে উঠেছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।