জার্মানি ভেবেছিল তাদের বিপদ কেটে গেছে। বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে ডিফেন্ডার জনাথন টাহ সবার ওপরে উঠে হেড করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু এরপরই হস্তক্ষেপ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। আর সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
কোনো মার্কিং ছাড়াই থাকা টাহ পোস্টের পেছন দিক থেকে উঠে এসে শক্তিশালী হেডে বল পাঠান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক Orlando Gill-এর নাগালের বাইরে। এতে জার্মানি এগিয়েও যায়। কিন্তু তার কয়েক সেকেন্ড আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলটি বাতিল করে দেওয়া হয়। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক Alan Shearer ঘটনাটিকে আখ্যা দেন “হাস্যকর” বলে।
কর্নার থেকে বল ভেসে আসার সময় জার্মানির Waldemar Anton প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক Orlando Gill-এর চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে রায় দেয়া হয়। ফলে গিল মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি টাহ'র হেড থেকে আসা বল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভিএআর মনে করে গোলরক্ষকের ওপর ফাউল হয়েছিল, আর সেই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়।
তবে ভিএআরের পরামর্শে রেফারি জালাল জায়েদ মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। এরপর Alan Shearer বিবিসি ওয়ানে মন্তব্য করেন , প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক Orlando Gill “রেফারিকে ধোঁকা দিয়েছেন”
শিয়ারার জোর দিয়ে বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একদমই একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে যায়, বিষয়টি খুবই হালকা ছিল। আমার কাছে এটি ভয়াবহ একটি সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।
“এটা বুঝতে হবে যে ফুটবল একটি শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক রেফারি এবং ভিএআর—দুজনকেই ধোঁকা দিয়েছে। যেভাবে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, তা ছিল সত্যিই হাস্যকর।”
এরপর নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোয় উঠে যায়। আর বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়া গোলের ঘটনায় জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
নাগেলসম্যান বলেন, “আমার মতে, এটি কোনো প্রকৃত ফাউল ছিল না। আসলে এই কারণে গোলটি বাতিল হওয়াটা ছিল একেবারেই প্রহসন।”
গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় তাকেও হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি। এদিকে এই হতাশাজনক বিদায়ের পর জার্মান দলের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বকাপে জার্মান টেলিভিশনের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা সাবেক লিভারপুল এফসিকে কোচ ক্লপ টাহ'র বাতিল হওয়া গোলটির সঙ্গে মৌসুমজুড়ে আরসেনাল এফসি-এর করা অনেক গোলের মিল খুঁজে পান।
ক্লপ ম্যাজেন্টাটিভিকে বলেন, “যদি এই গোলটি অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনালও ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতো না। তারা তাদের ৬০ শতাংশ গোলই এভাবেই করেছে।
“বল জালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা (জার্মানি) ম্যাচ জিতে গিয়েছিলাম। তাই অবশ্যই এটি অত্যন্ত নির্মম একটি সিদ্ধান্ত।”
খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর সাবেক প্রিমিয়ার লিগ সহকারী রেফারি ডারেন ক্যানও এ বিষয়ে নিজের মতামত জানান।
বিবিসি ওয়ানে তিনি বলেন, “আমার মতে, এটি খুবই হালকা সিদ্ধান্ত ছিল।”
ক্যান আরও বলেন, “তবে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখেছি, তাতে গোলটি বাতিল করা হলে আমি অবাক হব না।
“খুবই সামান্য কিছু অপরাধের কারণে আমরা ইতোমধ্যে দুই-তিনটি গোল বাতিল হতে দেখেছি। এর তুলনায় এটাও প্রায় কিছুই নয়।
“গোলরক্ষকের সামনে সামান্য একটি বাধা ছিল, কিন্তু আমার কাছে তা যথেষ্ট নয়। তবু আমার ধারণা, তারা গোলটি বাতিলই করবে। আমাদের মতে, এই গোল বাতিল করা উচিত নয়।”
এদিকে পাত নাভিন, যিনি বিবিসি রেডিও ৫ লাইভের জন্য বোস্টন থেকে ম্যাচটি কাভার করছিলেন, তিনিও মনে করেন কথিত ফাউলটি গোল বাতিল করার মতো স্পষ্ট ছিল না।
তিনি বলেন, “ওখানে পুরো পরিস্থিতিই ছিল বিশৃঙ্খল। একটি ব্লক ছিল—এটি কি গোলরক্ষককে প্রভাবিত করেছে? দেখে মনে হয় করেছে।
“কিন্তু এটি সম্পূর্ণই রেফারির ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার বিষয়। ঘটনাটি এতটা স্পষ্ট নয় যে নিশ্চিতভাবে ফাউল বলা যায়।”