Image description

মিগুয়েল আলমিরন কোনো ভয়ংকর ট্যাকল করেননি, প্রতিপক্ষকে কনুইও মারেননি। এমনকি রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়েও সীমা ছাড়াননি। তবু তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। আলমিরন বিস্মিত, বিস্ময় দর্শকের চোখেমুখেও। কী এমন ঘটল যে এত বড় শাস্তি?

ঘটনার কেন্দ্রে আলমিরনের মুখ ঢেকে কথা বলা। তুরস্কের মের্দ মুরদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন প্যারাগুয়ের এই মিডফিল্ডার। আর সেটিই তাঁকে ইতিহাসের অংশ বানিয়েছে। ফুটবলের নতুন নিয়মে মুখ ঢেকে কথা বলার দায়ে লাল কার্ড দেখা প্রথম খেলোয়াড় এখন আলমিরন। কিন্তু কেন এমন নিয়ম? মুখ আড়াল করে কয়েকটি কথা বলার সঙ্গে লাল কার্ডের সম্পর্কই বা কী?

ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের কানে কানে কিছু বলা নতুন কিছু নয়। উত্তেজনা, স্লেজিং, মানসিক চাপ তৈরি—সবই খেলার অংশ হিসেবে বহু বছর ধরেই দেখা যায়। কিন্তু যখন কোনো খেলোয়াড় কথা বলার সময় নিজের মুখ জার্সি বা হাত দিয়ে ঢেকে ফেলেন, তখন সন্দেহ তৈরি হয় আসলে কী বলা হচ্ছে, কেন তা গোপন রাখা হচ্ছে? এই প্রশ্ন থেকেই বিশ্ব ফুটবলের আইনপ্রণেতারা নতুন এক নিয়মের পথে হেঁটেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে ফুটবলারদের লাল কার্ড দেখানোর বিধান কার্যকর করা হয়েছে।

হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন আলমিরন
হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন আলমিরনএএফপি

বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। কী বলা হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে প্রেসতিয়ান্নিকে সমকামবিদ্বেষী আচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় উয়েফা।

ঘটনাটি ফুটবলের নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দেয়। আধুনিক ফুটবলে প্রায় প্রতিটি মুহূর্তই ক্যামেরাবন্দী হয়। তবু মুখ ঢেকে কথা বললে ঠিক কী বলা হয়েছে, তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর সেই সুযোগ ব্যবহার করে কেউ যদি বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা ঘৃণামূলক মন্তব্য করেন, তাহলে প্রমাণ সংগ্রহ করাও জটিল হয়ে যায়।

রেফারির কাছে অভিযোগ করেন মুরদুল
রেফারির কাছে অভিযোগ করেন মুরদুলএএফপি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য মূলত প্রতিরোধ তৈরি করা। তাঁর যুক্তি, কোনো খেলোয়াড় যদি এমন কিছু বলেন যা প্রকাশ্যে বললে সমস্যা হতো, তখনই তিনি মুখ ঢাকার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইনফান্তিনো তাই প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘লুকানোর কিছু না থাকলে মুখ ঢাকারও প্রয়োজন নেই।’ ফলে মুখ ঢেকে কথা বলার অভ্যাসটিকেই নিরুৎসাহিত করতে চায় সংস্থাটি।

তবে মুখ ঢুকলেই যে লাল কার্ড দেখানো হবে, বিষয়টি তেমন নয়। ফুটবলের আইন প্রণয়ন সংস্থা আইএফএবি বলেছে, প্রতিটি পরিস্থিতি রেফারির বিবেচনায় মূল্যায়িত হবে। রেফারি যদি মনে করেন আচরণটি সন্দেহজনক, উসকানিমূলক বা খেলার স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকবে।

আর সেই শাস্তিটিই আর আলমিরনকে দিয়েছেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বারটন।