Image description

চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ইরাকের হয়ে যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন, তবে সেই আনন্দ ইরাকের গণ্ডি পেরিয়ে ছুঁয়ে যাবে অন্য আরেকটি দেশকে। 

অবিশ্বাস্য শোনালেও, ইরাকের এই ম্যাচটির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি ফুটবলপ্রেমী।

ফুটবল ইতিহাসে পাকিস্তান কখনো পুরুষ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এবং তাদের পুরো ইতিহাসে বাছাইপর্বে মাত্র একটি ম্যাচ জেতার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১৯৮ নম্বরে থাকা এই দক্ষিণ এশিয়ান দেশটির মানুষ বিশ্বমঞ্চে কখনো নিজেদের কাউকে সমর্থন করার সুযোগ পায়নি, তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে।

 

বর্তমানে ডাচ ক্লাব উট্রেখটে খেলা সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করলেও, তিনি হতে যাচ্ছেন পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। এই অনন্য রেকর্ডের খবরটি জানতে পেরে জিদান নিজে এবং তার বাবা উভয়েই বেশ অবাক ও গর্বিত হয়েছিলেন।

 

ম্যানচেস্টারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ২৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের বাবা পাকিস্তানি এবং মা ইরাকি। নিজের দুই দেশের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত জিদান বলেন, ‘আমার বাবা পাকিস্তানে জন্মেছেন এবং আমার দাদা ছিলেন সেখানকার প্রথম প্রজন্ম, তাই পরিবারের ওই অংশটির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

’ 

 

এই শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি যখন মাঠে নামেন, তখন তার বাম পায়ের বুটে ইরাকের এবং ডান পায়ের বুটে পাকিস্তানের পতাকা আঁকা থাকে। তার কাছে দুটি দেশের গুরুত্বই সমান।

জিদান ইকবালের জন্য এটিই প্রথম রেকর্ড নয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসে দীর্ঘ ২০ বছরের মধ্যে প্রথম ব্রিটিশ দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। তরুণ এই ফুটবলার আশা করেন, তার এই যাত্রা দক্ষিণ এশিয়ান বা যেকোনো অঞ্চলের সাধারণ ঘরের বাচ্চাদের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে বড় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

‘পাকিস্তানি ট্যালেন্টস’ নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচালক আহমেদ শাহজাদ জানান, বিশ্বমঞ্চে শীর্ষ স্তরে পাকিস্তানিদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় জিদান ইকবাল এখন পুরো দেশের আইকন। প্রবাসে থাকা এবং পাকিস্তানের স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা এখন জিদানের কারণে কেবল তাকেই নয়, বরং পুরো ইরাক দলকেই মনপ্রাণ দিয়ে সমর্থন করছেন।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ইরাককে দীর্ঘ ২১টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, যা যেকোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান পরাশক্তিদের এটি প্রথম বিশ্বকাপ; এর আগে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তারা শেষবার খেলেছিল এবং সেবার গ্রুপ পর্বের তলানিতে থেকে মাত্র ১টি গোল করতে পেরেছিল। কাকতালীয়ভাবে, এবারের বিশ্বকাপের একটি অংশও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে ইরাককে লড়তে হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে এবং আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের রানার্স-আপ সেনেগালের বিপক্ষে। কঠিন এই গ্রুপ নিয়ে জিদান ইকবাল বলেন, ‘আমাদের হারাবার কিছু নেই, আমরা এখানে আন্ডারডগ। আমরা হারলে সবাই সেটাই স্বাভাবিক ধরে নেবে, কিন্তু আমরা যদি জিতে যাই তবে পুরো বিশ্ব চমকে যাবে। আমরা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতে এবং সবাইকে চমকে দিতে প্রস্তুত।’