আগামী জুনে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য এবার এক শর্ত জুড়ে দিলো ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে—ইরানি সামরিক বাহিনী এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কোনো প্রকার ‘অসম্মান’ করা হবে না। মেহদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের আয়োজক হলো ফিফা, মিস্টার ট্রাম্প বা আমেরিকা নয়।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, ‘আমেরিকানরা, যদি তারা আমাদের সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং আইআরজিসিকে অপমান না করার গ্যারান্টি দেয়, তবেই আমরা যাব।’ অর্থাৎ, মার্কিন কর্তৃপক্ষ যদি ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সম্মান রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে, তবেই কেবল ইরানিরা বিশ্বকাপে অংশ নেবে। সম্প্রতি কানাডার টরন্টো বিমানবন্দরে ইরানি প্রতিনিধি দলের সাথে ঘটা এক তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তাজ।
বৈধ ভিসা থাকার পরও মেহদি তাজসহ প্রতিনিধি দলকে কানাডায় ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। মূলত, আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মেহদি বলেন, ‘যদি তারা এমন গ্যারান্টি দেয় যে কানাডার মতো ঘটনা আর ঘটবে না এবং তারা নিশ্চিতভাবে এর নিশ্চয়তা দেয়, তবেই আমরা যাব।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে জুরিখে বৈঠকে বসবে ইরান। তাজ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সেখানে একটি গ্যারান্টি প্রয়োজন যে, আমাদের ব্যবস্থার প্রতীকগুলোকে, বিশেষ করে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে অপমান করার কোনো অধিকার তাদের নেই।’
মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের আগুনে ফুলকি এসে পড়েছে ফুটবল মাঠে। তবে তাজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান বীরদর্পেই মাঠে ফিরতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি কারণ আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদের আয়োজক হলো ফিফা, মিস্টার ট্রাম্প বা আমেরিকা নয়।’
সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা। তবে আগেই থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে খেলার বিরোধিতা করে আসছে ইরান।