Image description

চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। প্যারিসে মঙ্গলবার রাতে ৯ গোলের এই অবিশ্বাস্য ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় ফরাসি ক্লাবটি, ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকল তারা।

ম্যাচের আগে ‘আমাদের চেয়ে ভালো দল আর নেই’—পিএসজি কোচের সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলনই দেখা যায় মাঠে। শুরুতে হ্যারি কেইনের গোলে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুতই সমতায় ফেরে পিএসজি। খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া ও জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মাইকেল ওলিসে সমতা ফেরান। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের পেনাল্টিতে আবার লিড নেয় স্বাগতিকরা।

প্রথমার্ধে পাঁচ গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চার গোল যোগ হয়ে ম্যাচটি পরিণত হয় গোলবন্যায়। বিরতির পরপরই কাভারাৎসখেলিয়া ও দেম্বেলের জোড়া গোলে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। যদিও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় বায়ার্ন। দায়ত উপামেকানো ও লুইস দিয়াসের পরপর দুই গোলে ব্যবধান কমে ৫-৪ হয়, ফিরতি লেগের আশা জিইয়ে রাখে জার্মান ক্লাবটি।

এই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়ন লিগ সেমিফাইনালের এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ইউরোপিয়ান কাপ যুগে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ, যেখানে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রেঞ্জার্স ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৬-৩ ব্যবধানে।

২০২১ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবার ইউরোপের এই মঞ্চে বায়ার্নকে হারাতে পারল পিএসজি। এর আগে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন ছিল তারা। যদিও একপর্যায়ে ৫-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও ব্যবধান কমিয়ে আনা বায়ার্নের জন্য ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

পুরো ম্যাচে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে কার্যকর ছিল পিএসজি। তারা ১২টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে বায়ার্নের ১০ শটের ৮টিই ছিল লক্ষ্যে। তবে বিস্ময়করভাবে ম্যাচে কোনো সেভ করতে পারেননি বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার—চ্যাম্পিয়ন লিগের নকআউট পর্বে গত ১৬ মৌসুমে এমন ঘটনা এই প্রথম।

ম্যাচের শুরুতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে ১৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। পরে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে পিএসজি এবং ধারাবাহিক আক্রমণে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও গোলের ঝড় তোলে দুই দল।

শেষ দিকে দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল হয়নি। যোগ করা সময়ে বায়ার্নের নিশ্চিত গোলের সুযোগ গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন পাচো, ফলে ৫-৪ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।

আগামী বুধবার মিউনিখে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগ।