ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে হাতে সময় খুব কম। কিন্তু নেইমার জুনিয়র এখনো মাঠের লড়াইয়ে ঠিক সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এককথায় কোচ কার্লো আনচেলত্তির মন জোগাতে করণীয় তেমন কিছুই করে দেখাতে পারেননি। যে কারণে ফুটবলের এ বৈশ্বিক আসরের আগে গণমাধ্যমে এখন একটাই বিষয় নিয়ে চর্চা হচ্ছে বেশি। আর বিষয়টি হলো—নেইমার কি ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন?
উত্তরটা এখনই দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। তার আগে কিছুতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়, নেইমার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে প্রিয় জন্মভূমির প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না! তবে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন কি না এ প্রশ্নের উত্তরে বিভক্ত ব্রাজিলিয়ানরা। এ বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ব্রাজিলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘জেনিয়াল/কুয়েস্ট’। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ পেয়েছে তাদের জরিপের ফলাফল।
সেই জরিপ থেকে জানা গেছে, নেইমারকে জাতীয় দলে খেলানোর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৭ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান জনগণ। আর তার হলুদ জার্সিতে ফেরার বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান। বাকি ৮ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিষয়টা এখানেই শেষ নয়, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ মানুষ জানান, এবারের ফুটবল মহাযজ্ঞ নিয়ে তাদের মনে কোনো উন্মাদনাই কাজ করছে না। মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে যারপরনাই শিহরিত। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেও ৩২ শতাংশ ফুটবল অনুরাগীরা খুব একটা রোমাঞ্চ অনুভব করছেন না।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নই দেখছেন না সিংহভাগ ব্রাজিলিয়ানরা। জরিপে উঠে এসেছে তেমন নেতিবাচক পূর্বাভাস। ৬৮ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানই বেশ মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করেন, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ঘরে এবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঠার সম্ভাবনা নেই। ২০২৩ সালের এপ্রিলে এ জরিপ শুরু হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এমন হতাশার চিত্র আর কখনো দেখা যায়নি। জরিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নেতিবাচক হার এটি।
ব্রাজিলে এ জরিপ চালানো হয়েছে ১০ থেকে ১৩ এপ্রিল। এতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ২ হাজার ৪ জন মানুষ। ন্যূনতম ১৬ বছর বয়সিরা এ জরিপে তাদের মতামত জানিয়েছেন। জরিপের ফল বলছে, ব্রাজিল কোচ হিসেবে আনচেলত্তির পারফরম্যান্সের চেয়ে তার জনপ্রিয়তার হার কম। ইতালিয়ান কোচের কাজে খুশি ৪১ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান। তার ওপর নাখোশ ২৯ শতাংশ আর ৩০ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেলেও ড্র করেছে দুটি এবং হেরেছে তিনটিতে। জয়ের হার ৫৬ শতাংশ।