Image description

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই এবং আমি নিজেই এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী।’

সম্প্রতি জনপ্রিয় টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, দলের উত্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

নির্বাচনে জামায়াতের বড় জয়কে ‘উত্থান’ হিসেবে দেখার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের অনেকের মনেই এই প্রশ্ন রয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র বুঝতে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে যে জিতলে নির্বাচন ‘ফেয়ার’, আর হারলে ‘কারচুপি’। আমরা এই সংস্কৃতি চালু করতে চাইনি দেখেই কারচুপির শব্দগুলো নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করিনি। কিন্তু কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং যেভাবেই বলা হোক না কেন, এটি যে হয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। আমি নিজেই আমার এলাকায় এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী।’

নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রে হামলা ও দখলের চেষ্টা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ না করলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। ওই কেন্দ্রে প্রায় ২৬ হাজার ভোট ছিল, অথচ আমি জিতেছি ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে। কেন্দ্রটি দখল করে আমাকে ১০টি ভোট দিয়ে বাকি সব নিয়ে নিলে আমিও হারতাম। বাংলাদেশের বহু জায়গায় এমন চিত্র দেখা গেছে।’

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সীমিত সামর্থ্য দিয়ে আমরা শহীদ পরিবার এবং আহত-পঙ্গু ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। জনগণ দেখেছে একটি দল যখন মানুষের জন্য কাজ করছে, অন্য দলগুলো তখন ‘ক্রেডিট’ নেওয়া নিয়ে কাড়াকাড়ি করেছে। অনেকে দ্রুত নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও আমরা বলেছিলাম আগে পরিস্থিতি সামাল দিন, সংস্কার করুন, তারপর নির্বাচন।’