মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথাগত রীতির বাইরে গিয়ে বেদিতে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেছেন সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা দেখা গেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুউদ্দিন শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করার পরপরই সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুরুতে তিনি একা শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বেদিতে দাঁড়িয়ে পশ্চিমমুখী হয়ে মোনাজাত করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো সরকারপ্রধানকে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে দাঁড়িয়ে এভাবে মোনাজাত করতে দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অতীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। তারেক রহমানের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেলেও বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়ার নজির ছিল না।
প্রধানমন্ত্রীর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলটির কোনো শীর্ষ নেতার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বেদিতে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
ফেসবুকে অনেকেই একে ‘প্রথা ভাঙার সাহসী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একই স্থানে দোয়া করা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন বার্তা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এর আগে কোনো সরকার বা বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে এভাবে শহীদ মিনারের বেদিতে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করতে দেখা যায়নি। প্রথম প্রহরের এ ব্যতিক্রমী দৃশ্য তাই আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।