Image description

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থীর নাক ফাটানোর ঘটনার জেরে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি সদস্য সচিব ও আহবায়কের ষড়যন্ত্রের শিকার।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা সম্পন্ন) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক স্থগিতাদেশ প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।

জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হল দখলকে কেন্দ্র করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রদলের এক গ্রুপের তিনজন সদস্য আহত হন। অপরদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা কর্মীদের মেসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। মারধরের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংসদ আতিকুর রহমানের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

পদ স্থগিত হওয়া আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমার একটি ছোট ভাই ছাত্রদলের রাজনীতি করে। সে ১০৪ নম্বর রুমে থাকত। তাকে দ্বিতীয় তলায় সিট দেওয়া হলে সেটি নিয়ে তারা ঝামেলা বাধায়। আবির নামে এক ছেলে যে নেশা করে, শুনেছি ইয়াবাও খায় এবং আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল করে সে বলে তার অনুমতি ছাড়া কেউ হলে উঠতে পারবে না। নিবিড়, যে আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিল, সেও একই কথা বলে। তারা কি প্রশাসন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১২ বছর ধরে ছাত্রদলের রাজনীতি করি। বিগত শাসনামলে একদিনের জন্যও হলে থাকতে পারিনি। আবির আমাকে তার রুমে থাকতে বললেও আমি আমার ছোট ভাই সাজ্জাদের রুমে গেস্ট হিসেবে থাকি। আমাদের দলীয় নীতি ছিল ছাত্রদলের কেউ হলে উঠতে চাইলে সবাই তাকে সহায়তা করবে। কিন্তু তারা সহায়তা না করে বাধা দেয়। বিষয়টি আমি সদস্য সচিব ও আহবায়ককে জানাই। তারা হলে গিয়ে কথা বলে আমাকে ডাকে। তারা আগেই গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং অন্যদের প্রস্তুত করে। নিবিড় আমার সঙ্গে বেয়াদবি করলে আমি তাকে একটি থাপ্পড় মারি। তখন আহবায়ক আমাকে চলে যেতে বলেন। আমি চলে আসি। পরে আমার সঙ্গে রাজনীতি করা ছোট ভাইদের মেসে গিয়ে হলের ছেলেরা ভাঙচুর করে।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় সংসদ ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে।’

অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত ডেকোরাম অনুযায়ী হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, তবে সেটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। সংগঠন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটিই আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে সংগঠনের কাজ পরিচালনায় এটি শিক্ষণীয় বিষয়। কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে আরও বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সেন্ট্রাল কমিটির কাছে কেউ ঊর্ধ্বে নয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পদ স্থগিত করা হয়েছে।’