Image description

‘লাঙ্গল’ সামনে নিয়ে জানাজার নামাজ পড়ছেন কয়েকজন তরুণ। এই ছবিটা বেশ ভাইরাল হয়েছে। জাপা’র দুর্গখ্যাত রংপুরেও কোনো লড়াই করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় অবস্থানেও যেতে পারেনি। রংপুর-৩ আসনে সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের নির্বাচনী এলাকা। দীর্ঘদিন ধরেই আসনটি ধরে রেখেছে এরশাদ ও এরশাদের স্বজনরা। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে লড়াই করেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের। নির্বাচনের আগে বড় বড় বয়ান দিলেও ভোটের মাঠে শূন্য।

লাঙ্গলের এই ভরাডুবির কারণ কী? তা জানতে কথা হয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে। তারা এই জাপা’র ভরাডুবিকে প্রত্যাশিতই বলছেন। রংপুরের ভোটব্যাংক খ্যাত ছয়টি আসনসহ দেশের কোনো আসনেই দ্বিতীয় অবস্থানেও যেতে পারেনি জাপা। রংপুর-৩ আসনে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট ও গাইবান্ধা-১ আসনে জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে উভয়ই তৃতীয় হয়েছেন। দলটি ১৯৬টি আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। ভোটের আগেই দু’জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

ছাত্রজীবন থেকে জাপার রাজনীতি করেছেন ইয়াসিন ইসলাম রাতুল। তিনি বলেন, এটা প্রাপ্য ছিল। রাজনীতি করা প্রয়োজন, নাটক নয়। এই দলটাকে কফিনের শেষ পেরেক ঠোকা হয়েছে। দলটা পুরনো ভোটারদের নিয়েই নাচে। নতুন ভোটারের নাম শুনলে জাপা হাসতো। এখন সবাই হাসে, এই তো পার্থক্য। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, জাপা এখন বাতিল দল। রাজনীতি করতে হলে নীতি ঠিক করতে হবে। জাপা’র কোনো নীতি নাই।

উত্তরাঞ্চল থেকে নির্বাচন করা এক প্রার্থী বলেন, জাপা’র এই ফল প্রত্যাশিত ছিল। কারণ জাপাকে ভোট দেয়ার কোনো কারণ আমি পাই না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে দলের এতটাই বাজে অবস্থা যে, রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াত রাজনীতি করে এত বড় দলে পরিণত হলো। কিন্তু জাতীয় পার্টি কেন পারলো না। কারণ আমাদের নেতারা অন্যের দিকে চেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, এই যে কমিটিগুলো কেন দেয়া হয় না। কোনো প্রোগ্রাম কেন করা হয় না। শুধু ঢাকায় বসে কথা বললে রাজনীতি হয় না। আর জিএম কাদের আছেন কীভাবে হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়া যায় তা নিয়ে। তিনি আরও বলেন, আসনটাও তো ঠিকভাবে নিতে পারে না। সমঝোতার আসন হলে তো স্ত্রীর আসন সমঝোতা না করে একজন সিনিয়র নেতার আসন নিশ্চিত করতেন। আর তিনি কী বলে এই দলের প্রধান। তিনি

এরশাদের ভাই, এ ছাড়া তার আর কী যোগ্যতা আছে?

তবে ভিন্ন কথাও শোনা যায়। নীলফামারী-১ আসন থেকে নির্বাচন করা মো. তসলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমার আসনে ভোট কারচুপি করা হয়েছে। পূর্বে থেকে সিল মারা ছিল। কক্ষের ভেতরে আটজন বোরকা পরা মহিলা বসে ছিল। বেশ কয়েকজন বোরকা পরা মহিলা একসঙ্গে সিল মেরেছে। অভিযোগ জানালে বলে, লিখিত অভিযোগ দেন। আমি একটা কেন্দ্রে পেয়েছি। তাহলে ভাবেন বাকি কেন্দ্রগুলোতে কী হয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানালে তারা বলেন, লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু এসব নির্বাচনী অভিযোগের কোনো ভবিষ্যৎ নাই। তিনি নির্বাচনের আগে অর্থ বিতরণের কথাও বলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিএম কাদেরের ওপর ভরসা রয়েছে। যোগ্য লোকের হাতেই দল রয়েছে। আগামীতে জাপা ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশাও করেন।