পবিত্র শবে বরাতের রাতে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যখন প্রার্থনায় মগ্ন, ঠিক তখনই সামাজিক মাধ্যমে এক অন্যরকম ‘বার্তা’ নিয়ে হাজির হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জ্যেষ্ঠ কন্যা, বিশিষ্ট গবেষক ডক্টর শমারুহ মির্জা।
তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে নেটপাড়ায়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তার এই লেখনীতে ধরা দিয়েছে সৌজন্যবোধ, সত্যনিষ্ঠা এবং এক আধ্যাত্মিক আর্তি।
শামারুহ তার পোস্টে শুরুতেই গুরুত্ব দিয়েছেন মানুষের আচরণের ওপর। তিনি লিখেছেন, ‘কখনো কোনো মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার ইনিশিয়েট করবেন না।’ তার মতে, শিষ্টাচার এবং সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে যে উদাহরণ তৈরি হয়, তার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানের অসহিষ্ণু রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহে মির্জা-কন্যার এই মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, ‘তারা সর্বদা সত্য, সততা এবং সুন্দরের পক্ষে। ধর্মের অনুষঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন এক অমোঘ সত্য— মানুষের প্রতিটি কর্মই দুই কাঁধে আসীন ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছেন, যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে আল্লাহর কাছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি প্রার্থনা করেছেন যেন ‘মুনাফেক’ বা ‘কপট’ ব্যক্তিদের হাত থেকে রক্ষা আল্লাহ সকলকে করেন। রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই ‘মুনাফেক’ শব্দটির প্রয়োগ নিয়ে চলছে নানাবিধ চর্চা।
নিজের শিকড়কে ভোলেননি শামারুহ। শবে বরাতের এই পবিত্র রাতে তিনি বিশেষভাবে দোয়া করেছেন তার পৈতৃক ভিটে ঠাকুরগাঁও এবং দেশবাসীর জন্য। একইসঙ্গে অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের কাছেও চেয়েছেন আশীর্বাদ ও প্রার্থনা।
রাজনীতির অন্দরমহলে যখন কাদা ছোঁড়াছুড়ি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে দাঁড়িয়ে মির্জা-কন্যার এমন নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বার্তা এক পশলা টাটকা বাতাসের মতোই কাজ করছে সাধারণ মানুষের কাছে।