Image description

চট্টগ্রামের দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হলেও এখনো তারা নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। ফলে এসব আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এছাড়া জেলার একটি আসনে এনসিপিকে ছাড় দেয় জামায়াত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করাই ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও থাকছে। ফলে ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকরা।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাঁশখালী বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন লেয়াকত আলী এবং তিনি মনোনয়নের শক্ত দাবিদার ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে মিশকাতুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন।

যদিও বর্তমান পদধারী নেতারা প্রকাশ্যে লেয়াকত আলীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না, তবে সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। ফলে জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলী বিএনপির জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া) আসনে একসঙ্গে দুজন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—শফিকুল ইসলাম রাহী এবং অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন চৌধুরী। কেন্দ্র থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বলে তাদের সমর্থকদের দাবি। এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক।

এদিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু নাসের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকছে। যদিও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা সরাসরি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন না, তবে দলের সাধারণ কর্মীরা নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে এনসিপি প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাসের বলেন, ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি এবং কোনো প্রচার চালাচ্ছি না।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে জামায়াতে ইসলামী পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়নি। ব্যালটে প্রতীক থাকায় দলটি কিছু ভোট টানতে সক্ষম হবে, যা সরাসরি জয়-পরাজয়ে বড় প্রভাব না ফেললেও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে জামায়াতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।