Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বড় বড় দলগুলো মনে করে মার্কাই সব। কিন্তু মানুষ এখন অনেক সচেতন। গত ১৭ বছরে দেশের বাস্তবতা বদলে গেছে, বদলেছে মানুষও।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নিজের নির্বাচনি এলাকা আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুরে এক নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘খাটের তলা থেকে বের হয়ে যদি মনে করেন, মার্কায় চড়ে পাস হয়ে যাবেন— সে দিন আর নেই। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু, রাকসু ও চাকসুর নির্বাচন তাকিয়ে দেখেন, মানুষ এখন জবাব দেওয়া শুরু করেছে। সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম কারা করেছে, তা মানুষ জানে।’

তিনি বলেন, আজ থেকে দেড় বছর আগে আমি সতর্ক করেছিলাম— মানুষ অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে। শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। আপনারাও এমন কিছু করবেন না, যেন মানুষ আপনাদের থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয়। আপনারা আমার কথা শোনেননি। ইনশাল্লাহ ফলাফলেই দেখা যাবে, মানুষ কার সঙ্গে আছে।

আশুগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, আশুগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী। এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। বড় বড় চালকল, নদীবন্দর, গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও আশুগঞ্জ কেন এখনও পৌরসভা হয়নি— এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা যোগ্য নেতৃত্ব পাইনি। আমাদের মার্কা দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এখন আর কোনও মার্কার ওপর মানুষ ভরসা করবে না। তিনি সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নির্বাচন। আপনারা যদি যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর শান্তি ও উন্নয়নে এলাকা সমৃদ্ধ হবে। আর যদি ভুল হয়, তাহলে এই দুটি উপজেলা আরও পাঁচ বছর পিছিয়ে যাবে।’

তিনি জানান, ১২ তারিখের নির্বাচন হবে হাঁস মার্কায়। হাঁস মার্কা উন্নয়নের মার্কা, জনগণের অধিকারের মার্কা এবং জনতার মার্কা। হাঁস মার্কা একা সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদকে অবৈধ বলার সাহসের প্রতীক।

ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। কেউ যেন একটি জাল ভোটও দিতে না পারে এবং কেউ যেন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে।

রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষ এখন তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন। গত ১৭ বছর মজলুম থাকার পর ১৭ মাসে কীভাবে জালিম হয়ে ওঠা যায়, তা সবাই কমবেশি দেখেছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও অত্যাচারের জবাব দেওয়ার নির্বাচন। এটি নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। ইনশাল্লাহ, বিজয়ে দেখা হবে।

এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।