Image description
 

“গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু না জেনে, না বুঝে মানুষ যদি ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেয়, তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে” বলে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, তার দল বারবার কথাটি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, “সরকার গণভোটের কথা বলে সংস্কারের নামে মুলা ঝুলাতে চাচ্ছে। গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকা মানেই সেই ক্ষমতা জামায়াত ও এনসিপির হাতে থাকা।”

বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রংপুরে পৌঁছে নিজ বাসভবন স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, “নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতা ও সংঘর্ষে দেশের মানুষ উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। দুটি দল যেভাবে দাপটের সঙ্গে মাঠে রয়েছে, সে সুযোগ জাতীয় পার্টি পাচ্ছে না। শুধু নেতাকর্মী বা প্রার্থী নয়, ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে না আসার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।”

জি এম কাদের আরো বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই ধরনের পরিবেশ না থাকলে একতরফাভাবে ফল ঘোষণা করা হবে, যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হবে।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার সংস্কারের কথা বললেও কী সংস্কার করবে—তা পরিষ্কার করে বলছে না। গণভোটের মাধ্যমে হ্যাঁ-কে বিজয়ী করে ক্ষমতায় থাকার সময় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “সরকার একটি সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পথে এগোচ্ছে, যা পাকিস্তানি চিন্তাধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকেই তারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের শেষ ধাপ হিসেবেই গণভোটকে সামনে আনা হয়েছে।”

জি এম কাদের আরো বলেন, “দেশে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। মানুষ হত্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, মিল-ফ্যাক্টরি ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি চলছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘না’ বলতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ জিতলে স্বাধীনতা নয়, গোলামিই প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এ সময় জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, জাপা নেতা ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষনিউজ