Image description
 

শেরপুর সদর থানার এক এএসআইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুর সদর থানার গেটের বিপরীতে রাজভল্বপুর মহল্লায় তার ভাড়া বাসায়।

 

নিহত এএসআইয়ের নাম শাহিনুল ইসলাম। তিনি জামালপুর জেলার টেবিরচর গ্রামের মৃত শামসুল হক মাস্টারের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুল ইসলাম প্রায় পাঁচ মাস আগে শেরপুর সদর থানায় যোগদান করেন। তিনি স্ত্রী ও আট বছরের এক শিশু সন্তানসহ শহরের রাজভল্বপুর মহল্লায় সদর থানার গেটের বিপরীত পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। 

 

গত বুধবার রাতে নাইট ডিউটি শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে তিনি বাসায় ফেরেন। এদিকে তার স্ত্রী মাকসুদা পারভীন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে বাসায় ফেরেন। বাসায় ফিরে তিনি ও তার ভাই বাইরে থেকে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তারা দেখতে পান, শাহিনুল ইসলাম জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন।

পরে মাকসুদা পারভীন ও তার ভাই তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

 

নিহতের স্ত্রী মাকসুদা পারভীন দাবি করেন, শাহিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং বিয়ের তিন থেকে চার মাস পর থেকেই তার স্বামীর মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়। মাঝে মাঝে তিনি দোকান থেকে বিষ কিনে আনতেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তিনি দাবি করেন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাহিনুল ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।