Image description
 
 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমাদেরকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এ নির্বাচনটি নিশ্চিত করবে আগামীদিনে দেশের মানুষের জবাবদিহিতামূলক সরকার তৈরি হবে কি হবে না। সেই জন্যই আজকে বগুড়াবাসীর কাছে আমার আহ্বান ও অনুরোধ থাকবে, নির্বাচনটির বিষয়ে আমাদেরকে সিরিয়াস থাকবে হবে। দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে এ নির্বাচন আমাদের দিক নিদের্শনা দেবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১২টায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বগুড়া শুধু বঞ্চিত ছিল না। সমগ্র বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে বঞ্চিত ছিল বগুড়া। আগামী দিনে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনা করার সুযোগ দেয়, তাহলে শুধু বগুড়া নয়, সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করব। বগুড়াকে যেমন আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাব, ঠিক একইভাবে সমগ্র দেশকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষকরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পন্ন ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় বগুড়াবাসী. আজ এ মূহুর্তে আপনাদের দেবার কিছু নেই। আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। আপরানা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন, আমাদের যদি মানসিকভাবে সমর্থন দেন. তাহলে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশকে আগামী দিনে সুন্দর ও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। এজন্য প্রিয় বগুড়াবাসী, আজ আমি আপনাদের কাছে চাইতে এসেছি আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া–৩ আসনের প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিলটন।

এছাড়ারও অন্যান্যর মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- একেএম মাহবুবুর রহমান, ভিপি সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু, পিপি আবদুস বাছেদ। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

দেশের উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দিন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর শেষে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত হয়েই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান চালাতেই তিনি এ উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। পরে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

পরে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নওগাঁর জনসভায় ভাষণ দেন। এরপর রাত ৮টায় দিকে তিনি নওগাঁ থেকে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আসার পথে ৬০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে অগণিত নারী পুরুষ তাকে অভিবাদন জানান। পথে পথে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। জনস্রোতের কারণে ভিড় ঢেলে তারেক রহমানের বহনকারী গাড়িবহরকে এগোতে হয় ধীরগতিতে। ফলে তাকে বগুড়া শহরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। রাত গভীর হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থক বিকেল থেকে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য।

এদিকে জনসভাকে ঘিরে রাতের আঁধার কাটিয়ে আলো ঝলমল হয়ে উঠে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ স্লোগানমুখর মাঠে প্রতীক্ষায় ছিল মানুষ। তবে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে এবং দেখতে এর মধ্যেই সমাবেশস্থল থেকে শুরু করে আশেপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মিছিলে মিছিলে ভরপুর হয়ে উঠেছে বগুড়া শহর। দুপুর থেকেই বগুড়ার বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

মানুষের ঢলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে ও তার বক্তব্য শুনতে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বড়ো বহর মাঠে প্রবেশ করলে উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়।

মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই তার বক্তব্য শুনতে এবং দেখতে মাইক ও ডিজিটাল পর্দার সামনে এবং বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুল বারিক আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্ট করে এলাম তারেক রহমানকে দেখতে কিন্তু মাঠে জায়গা পেলাম না। তাই সাতমাথায় দাঁড়িয়ে আছি মাইকের সামনে। উনার কথা শুনবো।

মঞ্চের সামনে বসে থাকা নিশ্চিন্তপুরের হযরত আলী বললেন, সকাল থেকে বসে আছি। জায়গা ছাড়িনি। সামনা-সামনাসামনি তারেক রহমানকে দেখব বলে।

বিএনপির চেয়ারম্যান আগামী ৩০ জানুয়ারি ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে, ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।