বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকের কাছেই 'আনুগত্য' যেন এক ধরনের পোশাক, যা সময়ের সঙ্গে বদলে ফেলতে হয়। আর সেই সময়টা হলো নির্বাচন। প্রতিবার নির্বাচনের ডামাডোল বাজলেই এই পোশাক পাল্টাতে শুরু করেন এসব রাজনীতিবিদরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অব্যাহত রেখে এবারও সেই 'পোশাক' বদলানোর ধারা দৃশ্যপটে।
রাজনৈতিক 'ডিগবাজি'র এই সংস্কৃতিতে ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের ক্যারিয়ার যেন এক অনন্য পাঠশালা।
১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পর্যন্ত সাতটি ভিন্ন দলের প্রার্থী হয়ে ১১টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই দল বদলেছেন।
এবারের নির্বাচনে তিনি ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অধীনে জনতা পার্টি বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৭৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (মালেক গ্রুপ) প্রার্থী হিসেবে তার এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে বাকশাল ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন আবু জাফর। ২০০১ সালে পরাজয়ের স্বাদ নেন নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশের প্রার্থী হয়ে।
পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্টের (বিএনএম) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
নিজের এই অবস্থান পরিবর্তন প্রসঙ্গে আবু জাফর বলেন, 'আমি একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছি ঠিকই, কিন্তু এতে আমার এলাকার মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং লাভ হয়েছে। আমার এলাকার একজন মানুষও বলতে পারবে না যে আমি কারো জমি দখল করেছি বা কারো কোনো ক্ষতি করেছি।'
তবে এমন ডিগবাজির উদাহরণ আবু জাফর একা নন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ দল পরিবর্তন করেছেন অথবা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বড় দলে যোগ দিয়েছেন।
কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করতে গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন ব্যবসায়ী রেদওয়ান আহমেদ।
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়া রেদওয়ান ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে কর্নেল অলি আহমদের এলডিপিতে যোগ দিলেও এখন তিনি আবার পুরনো ঘরেই ফিরেছেন।
ওদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ যোগ দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে—যেটা ১১ দল নিয়ে গঠিত হলেও এখন ১০ দলের সমঝোতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে।
১৯৮০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে উপ-নির্বাচনে জয়ী হওয়া অলি আহমদ ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপির টিকিটে এমপি হন। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে এলডিপি গঠন করা হয় এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটেও যোগ দেয়। জোট ছেড়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন অলি।
২০১২ সাল থেকে বিএনপি জোটে থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ডিসেম্বরের শেষে তিনি বেড়িয়ে যান। তার ছেলে ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থী নেতাদের নিয়ে ২০২০ সালের মে মাসে গঠিত আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে জামায়াতে ইসলামীর অস্বীকৃতি এবং বাস্তবমুখী সংস্কারে দলটির অনীহার কারণে ক্ষুব্ধ ছাত্র শিবিরের সাবেক একদল নেতা এই দলে রয়েছেন।
দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়ে ফেনী-২ আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন।
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিতে নিজের দল বিলুপ্ত করেছেন এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক এবং পরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি এলডিপিতে যোগ দেন। তবে দলের জাতীয় কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় ২০১৯ সালে গঠন করেন বাংলাদেশ এলডিপি।
আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২১ সালে তিনি গণঅধিকার পরিষদে প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালে দলটি ছাড়েন তিনি। পরবর্তীতে গত ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রার্থী হন।
বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে কিবরিয়া বলেন, 'বিএনপিতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। এটি এমন একটি দল, যা ইতিহাসে বিরলভাবে দুইবার গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে। জিয়াউর রহমান আমার আদর্শ।'
রুস্তম আলী ফরাজী প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে—জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে। ১৯৯৮ সালে দলে ভাঙনের পর তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরে আবার জাতীয় পার্টিতে (এরশাদ) যোগ দেন। ২০১৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে পরাজিত হওয়ার পর গত বছরের আগস্টে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আসন্ন নির্বাচনের আগে সৈয়দ এহসানুল হুদা বাংলাদেশ জাতীয় দল ভেঙে দিয়েছেন, রাশেদ খান গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিতে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে নিয়ে নির্বাচন করছেন।
অধ্যাপক আবু সাঈদ পাবনা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি প্রথমবার ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বাকশালে যোগ দেন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর তিনি আবার আওয়ামী লীগে ফিরে ১৯৯৬ সালের জুনে নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে 'সংস্কারপন্থী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে পরবর্তী দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি।
তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ১৯৭৯ সালে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হন এবং পরে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তিনি ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি জাতীয় পার্টির একটি অংশের নেতা হন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আপিলের পর নির্বাচন কমিশনও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এখন তার সামনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা রয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, 'যারা ঘন ঘন দল পরিবর্তন করেন, তারা দলের উন্নতি তো দূরের কথা, দেশের উন্নতি নিয়েও ভাবেন না।'
তিনি বলেন, 'কেউ যখন একটি দল ছেড়ে অন্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন, তখন এটাই প্রমাণ হয় যে, দলের চেয়ে জয়ের বিষয়টিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
আরেক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম বলেন, 'বর্তমানে অনেকেই রাজনৈতিক দলকে একটি ব্যবসা হিসেবে দেখেন।'
তিনি বলেন, 'তারা মনে করেন সংসদ সদস্য হওয়া একটি বড় বিনিয়োগ, যা থেকে পরে বড় মুনাফা পাওয়া যায়।'
'নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই নিজেকে নিজের এলাকার সর্বময় কর্তা ভাবেন,' যোগ করেন তিনি।
আবদুল আলীম বলেন, 'তারা মনে করেন, আমি একবার সংসদ সদস্য হয়ে গেলে এলাকার জমিদার হয়ে যাব, পুরো এলাকার মালিক হয়ে যাব, আমার কথার ওপর আর কেউ কথা বলতে পারবে না, ৫ বছরে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিব—এরপর জীবনে আর কিছু লাগবে না।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে মানুষ এখনো বড় দলের প্রতীক দেখেই ভোট দেন। অনেক ভোটার কেবল প্রতীকেই ভোট দেন, প্রার্থী তাদের কাছে কোনো ব্যাপার না। তাছাড়া বড় দলগুলোর জয়ের সম্ভাবনাও সাধারণত বেশি থাকে।'
'দল পাল্টানো ব্যক্তিদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে নির্বাচন জেতা। তাই তারা মনে করেন—যেহেতু জেতার সম্ভাবনা কম, হয় দল ভেঙে দিতে হবে, নয়তো বড় দলে যোগ দিতে হবে,' যোগ করেন তিনি।
জেসমিন টুলি ও আবদুল আলীম দুজনই বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন সরকার জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) একটি অধ্যাদেশে এমন বিধান যুক্ত করেছিল, যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য হিসেবে অন্তত তিন বছর থাকতে হতো।
কিন্তু, ২০১৩ সালে সংসদে আরপিও সংশোধনী পাস হওয়ার সময় এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়।
তারা বলেন, এটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা জরুরি, তা না হলে নিজ স্বার্থে এই দল বদলানোর সংস্কৃতি বন্ধ হবে না।
আবদুল আলিম সতর্ক করে বলেন, 'আরেকটি বিষয় হলো—ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকেও ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে আমাদের দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা হুমকির মুখে পড়বে।'
অতীতের রেকর্ড
বাংলাদেশে দলবদল কোনো নতুন বিষয় নয়। রাজনৈতিক ডিগবাজি এ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত। দশকের পর দশক ধরে অসংখ্য রাজনীতিবিদ তাদের রাজনৈতিক জীবনে দল পরিবর্তন করেছেন।
সেই তালিকায় চোখ রাখতে গেলে যাদের নাম অনিবার্যভাবে প্রথম দিকে উঠে আসে, তাদের মধ্যে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন অন্যতম। তিনি ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং সংসদের প্রথম চিফ হুইপ হন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনার পর তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের ডেমোক্রেটিক লীগে যোগ দেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর শাহ মোয়াজ্জেম জনদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হন, যা পরে জাতীয় পার্টিতে রূপ নেয়।
তিনি জাতীয় পার্টির টিকিটে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলটির টিকিটে অংশ নিলেও পরাজিত হন।
মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। ১৯৮৪ সালে তিনি জনদলে যোগ দেন, যা পরে এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিতে পরিণত হয়।
তিনি ১৯৮৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৯১ সালে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মওদুদ আহমেদকে তার রাজনৈতিক জীবনেও ঘন ঘন দল পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরে ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালে তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে আসেন এবং ২০০১ সালে নোয়াখালী-১ আসনে জয় পান। ২০০৮ সালে তিনি খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা বিস্তৃত একাধিক দলে। তিনি ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগ ও ইসলামী ডেমোক্রেটিক লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৬ আসনে জয়ী হন। পরে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং ১৯৯১ সালে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৭ এবং ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সাবেক স্পিকার শামসুল হুদা চৌধুরীও দল পরিবর্তন করেছেন। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির ব্যানারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ন্যাপ (মোজাফফর) থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয় একতা পার্টির টিকিটে জয়ী হন। ১৯৮৬ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পান।
পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদে ফিরে আসেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।
ফরিদপুর-২ আসনে কে এম ওবায়দুর রহমান আওয়ামী লীগ দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে আবার নির্বাচিত হন।
পরে তিনি ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পান। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি খন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং এরশাদ আমলে 'জনতা দল' গঠন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী সংসদ সদস্য সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ ১৯৭৯ সালের উপ-নির্বাচনে খান এ সবুরের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন।
তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।