ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ঘর গোছাতে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থীরা। বিভিন্ন আসনে যাঁরা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, বিএনপি প্রার্থীরা সেই নেতাদের মান ভাঙিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও বাকি আসনগুলোতে এরই মধ্যেই অনেকে অভিমান ভেঙে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, আবার অনেকের মান ভাঙানোর চেষ্টা চলছে অব্যাহতভাবে। বিশেষ করে যেসব আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন, সেখানে স্বতন্ত্র দাঁড়ানো প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের চেষ্টা চালাচ্ছেন মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা।
এ বিষয়ে ভালো অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর ফটিকছড়ি এলাকার সব শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁরা সার্বিকভাবে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ফটিকছড়ির সব নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর হয়ে কাজ করবেন।’ জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিএনপির ১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সবার মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই বিএনপির প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সমর্থন এবং মান ভাঙাতে। এবার অপ্রত্যাশিতভাবে চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ। দলের বাইরে থেকে মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের একটি অংশ। এরই মধ্যে এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী। এ আসনের বেশ কিছু ইউনিয়নে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে রাহীর। তাই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই রাহীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পাশাপাশি দলীয় নেতার সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন জসিম উদ্দিন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাও পড়েছেন অগ্নিপরীক্ষায়। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মিশকাতুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকতের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। এই দুই প্রার্থীর চেয়ে ভিন্ন পরীক্ষায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার ও সাবেক এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী। এ আসনে দুইজনই চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রত্যাশায় দলীয় হাইকমাণ্ডে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই, চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী, চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া এবং চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন তিন থেকে চারজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে অনেক আসনে রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। এসব আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়া নেতা ও তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে চরম হতাশা। তাই মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের মান ভাঙিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। সবাই সমর্থন দিয়েছেন। বাঁশখালীর সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন।’