Image description
 

প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের ‘উন্মুক্ত ব্যবহারে’ উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দেশের ভিতরে পোস্টাল ব্যালটে মার্কার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম রাখার প্রস্তাব তুলেছে দলটি। ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর ছবি, মার্কা ও প্রতীক ব্যবহারে আচরণবিধির পরিবর্তনও চায় তারা। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন পরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং আচরণবিধি নিয়ে কথা হয়েছে। আইনি ব্যাখ্যার কিছু পয়েন্টে আর আচরণবিধির কিছু পয়েন্টসহ কয়েকটি বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এগুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এগুলো বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’ বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে নিবন্ধিত প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাধারণত সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের প্রবাসীদের ব্যালট পেপারে শুধু প্রতীক রয়েছে। এবার দেশে ও প্রবাসে পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী রয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ভোটার। আর দেশের ভিতরে সরকারি চাকরিজীবী, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। প্রবাসে শুধু প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হলেও দেশের ভিতরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।  ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, যেসব নির্বাচনি এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকে, তাদেরই তো মার্কা দিয়ে, নাম দিয়ে ব্যালট হয়। সেই একই ব্যালট যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি সেটা তারা গ্রহণ করবেন। যেহেতু এটা যৌক্তিক।’ সব মার্কা দিয়ে পোস্টাল ব্যালট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

ভোটার স্লিপেও পরিবর্তন চায় বিএনপি : দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে স্থানীয় ভোটারের স্লিপে প্রতীক ও প্রার্থীর নাম ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এ ধরনের প্রস্তাবের কথা বলছে তারা।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটার স্লিপে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের নাম থাকতে পারবে; কোনো দলের নাম দেওয়া যাবে না, মার্কা দেওয়া যাবে না এবং প্রার্থীর ছবি দেওয়া যাবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আচরণবিধির একটা বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে ভোটার স্লিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক। সে ক্ষেত্রে ভোটার নম্বর, প্রার্থীর নাম, প্রতীক ইত্যাদি ভোটার স্লিপের মাধ্যমে পেলে সহজ হয়। আমরা বলেছি, এগুলো কিছু পুনর্বিবেচনা করা দরকার। আচরণবিধি যেহেতু ইলেকশন কমিশন নিজেরাই এটা পরিবর্তন করতে পারবে। সুতরাং এ বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া। কারণ প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবে।’ আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্নভাবে যেসব বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছে এবং সেটা ভিডিও পাওয়া যায়, তাতে করে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারেও আমি দেখছি যে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। আমরা আশা করব, তারা এগুলো দেখবে।’