অভ্যুত্থানের পর বক্তব্য-বিবৃতি ছাড়া আমরা কী পেয়েছি— এমন প্রশ্ন তুলেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। শুক্রবার ভোররাত ৪টা ১৮ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তারেক বলেন, ‘শেখ হাসিনার তৈরি করা একটা মূর্তিও টিকে নাই, কিন্তু তার তৈরি করা মেট্রোরেলে চড়লে আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। শেখ হাসিনা মেট্রোরেল বানানোর জন্য চলে যেতে বাধ্য হয়নি, চলে যেতে হয়েছে ক্ষুধা দারিদ্র মণ্ডিত নাগরিকদের বঞ্চিত করে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে সেই সব মূর্তি বানানোর জন্য, আর এমন সব অন্য মারাত্মক অসঙ্গতির জন্য।
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ওই মূর্তির মতোই জুলাই স্তম্ভ বানানো হচ্ছে। জুলাই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। জুলাই নিয়ে আগের মতো সিনেমা, আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বস্তা বস্তা বরাদ্দ। এগুলোর আদৌ কোনো দাম আছে? জুলাই খুঁটির বদলে, আকাশ ছোয়া পথশিশু আশ্রম বানালে সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ বলত সবাই।
‘অতিরিক্ত ভক্তি কামাইকেই তো আমরা ফ্যাসিবাদ বলি। ফ্যাসিবাদ কোনো ব্যক্তি না। ফ্যাসিবাদ হলো ফ্যাসিস্ট হবার ইচ্ছা। যা অন্যের থেকে পাওয়া যায় না, তা নিজে ক্ষমতায় থেকে অর্জনই ফ্যাসিজম।
তারেক বলেন, ‘বাংলাদেশ ২.০০ তে না ঢুকলেও, বাংলাদেশ ফ্যাসিজম ২.০০ তে ঢুকেছে। ফ্যাসিজমকে আমরা চিনব কি করে, ফ্যাসিজমকে আমরা চিনব ফলাফল দিয়ে। ১২৫০ টাকার গ্যাস অভাবি পরিবারকে দিয়ে ২৭০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করাই ফ্যাসিজম।
‘ফ্যাসিজম এর আর এক নাম আত্মীয়করণ, অন্য এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করে, নিজ এলাকার মানুষকে অন্যায়ভাবে ডিও লেটার দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে নিয়োগ দেওয়াটায় ফ্যাসিজম। এভাবে এক জেলায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নিজ জেলায় ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়াকেই ফ্যাসিজম বলে। ’
‘আচ্ছা এই ভাবে কোনো বিভাগে এক জন উপদেষ্টাকেও নিয়োগ না দিয়ে কোনো এক বিভাগের ৭ জন উপদেষ্টাকে কি ফ্যাসিজম বলা যাবে? ৩৫৩টি গার্মেন্টস বন্ধ হইছে, রাষ্ট্রের কি উচিত ছিল এটার তদন্ত করা? এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আফিম, একে একে ধ্বংস করেছে এটাকে। কেউ ঠেকাই নাই এই ধ্বংস। চোখের সামনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে শিল্পকারখানা। গণ অভ্যুত্থানউত্তর বাংলাদেশে যে আদর মায়া দিয়ে দেশকে সাজানোর কথা ছিল, তার কতটা আমরা পেরেছি? বক্তব্য বিবৃতি ছাড়া বাস্তবে কি আমরা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘যত বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর বানানোর জন্য বয়ান আওড়ানো হচ্ছে, তা কিছু কৃত্রিম দেশপ্রেমিকের চাঁদাবাজির একটি কৌশলগত চাপ প্রদান। থাবা দিয়ে কার থেকে টাকা নেয়া অনেক সহজ। ২০টি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া অনেক কঠিন। পই পই করে যেমন প্রতিটি হত্যার বিচার চাই, তেমনি প্রতিটি নির্দোষের মুক্তি চাই। কে কোথায় আছে দেশকে ভালোবাসে, ফালতু সব নতুন ধারা পুরাতন ধারা। সুযোগ সন্ধানীরা শকুনের মতো অপেক্ষা করে কখন কে মরবে, আর রাজনৈতিক একটা ফায়দা নেবে। মানুষ দরকার নাই, লাশ দরকার লাশ।’