গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের ‘উন্মুক্ত ব্যবহারে’ উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। সেইসঙ্গে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে মার্কার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম রাখার প্রস্তাব তুলেছে দলটি। ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর ছবি, মার্কা ও প্রতীক ব্যবহারে আচরণবিধির পরিবর্তনও চায় তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালট সবচাইতে বেশি ব্যবহার হবে। আমরা সিইসির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি যে, নির্বাচনী এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবেন তাদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত একই ব্যালট যেন পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশের ভেতরের সব নির্বাচনী এলাকায় সব প্রার্থীর প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রয়োজন নেই, এটি যৌক্তিকও নয়।
এ সময় বাহরাইন ও কাতারে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক একটি বাসায় ২০০-৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত (ভিক্টিম) হচ্ছি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে এখানে কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা এবং এটি এখন প্রমাণিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
দুপুর দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া।
সাধারণত সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের প্রবাসীদের ব্যালট পেপারে শুধু প্রতীক রয়েছে।
এবার দেশে ও প্রবাসে পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মেধ্যে প্রবাসী রয়েছেন ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ভোটার। আর দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। প্রবাসে শুধু প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হলেও দেশের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনের দাবি জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা উচিত। বর্তমান বিধিমালায় এটি না থাকায় ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকে কঠিন নয়, সহজ করতে চাই যাতে সাধারণ ভোটাররা সহজেই তাদের প্রার্থীকে চিনতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিতের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তার সফর স্থগিত করেছেন। কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনী বক্তব্য ও বিবৃতির মাধ্যমে ক্রমাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।