Image description

তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক নতুন নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে যত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, তার একটি বড় অংশই আবর্তিত হয়েছে তার প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন না করতে পারাকে কেন্দ্র করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হয়েও কেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি—এ প্রশ্নটি বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক বক্তব্য, টকশো ও সামাজিক আলোচনায়।

ইতিহাসের পাতা উল্টে তাকালে দেখা যায়, এ বিতর্কের পেছনে ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বাস্তবতা। সেই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের শিক্ষা জীবনের গল্পটি বুঝে নেওয়া জরুরি।

মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারেক রহমানের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকেও তার মা বেগম খালেদা জিয়া ও ছোট ভাই আরাফাতসহ গ্রেফতার করা হয়। শৈশবেই  বাবাকে হারান তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের এই অভিজ্ঞতা তার জীবনধারাকে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের চেয়ে ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করে।

১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারেক রহমান গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছিল। এর ফলস্বরূপ, তার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে জেনারেল এরশাদের সরকার তাকে এবং তার প্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার গৃহবন্দী করে রাখে।

শিক্ষাজীবনে তারেক রহমান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন । তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল চরম অস্থির। এরশাদ সরকারের স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী আন্দোলন এবং তীব্র সেশনজটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি তারেক রহমান।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে তিনি গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে জনগণকে সংগঠিত করার মাধ্যমে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন এবং এরশাদ সরকারের পতনে অবদান রাখেন।

এছাড়া এরশাদ সরকারের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলমান গণআন্দোলন, ধর্মঘট ও সংঘর্ষের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র সেশনজট তৈরি হয়। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা তখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খাতায় তারেক রহমান; যিনি সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হলের ছাত্র ছিলেন

তৎকালীন সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যক্ষদর্শী ও কবি জসীমউদ্দিন হলের অফিস সহকারী মামুনুর রাশিদ দ্য ডেইলি ক্যম্পাসকে বলেন, ‘৯০ এর দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ক্যম্পাসে কোনো ক্লাস হতো না। সব সময় আন্দোলন হতো গোলাগুলি হতো। গোলাগুলিতে মানুষ নিহত পর্যন্ত হয়ে।’

তিনি বলেন, ‘একবার এই গোলাগুলিতে একটি গরু পর্যন্ত মেরে ফেলেছিল।  তখন হলগুলো দখলের রাজনীতি চলত। একটি হল আওয়ামী লীগ দখল করলে অরেকটি  অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো করত। আর তা করতে গিয়ে ঠিকমতো ক্লাস পরীক্ষা হতো না।  ১৯৭৭ সালের পরীক্ষা ১৯৮১ সালে হত। ক্যম্পাসে হাটা চলা করতেই ভয় লাগতো।  তখন কাউকে মেরে ফেললেও বিচার পাওয়া যেত না।’

শিক্ষাজীবনে তারেক রহমান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল চরম অস্থির। এরশাদ সরকারের স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী আন্দোলন এবং তীব্র সেশনজটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি তারেক রহমান।

যিনি জিয়া পরিবারের সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উচ্চশিক্ষা হয়ত যথাযথভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি তিনি শেষ করতে পারেননি—অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাবি শিক্ষক 

১৯৮৫-৮৬ সাল ও ৯০ এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষার্থী ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্র শেখর চক্রবর্তী দ্য ডেইলি ক্যম্পাসকে বলেন, ‘ওই সময়ের ছাত্রদের মধ্যে লেখাপড়ার মান এবং শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক তখন যথেষ্ট ভালো ছিল। তবে সমস্যাটা ছিল অন্য জায়গায়। তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেশনজট ছিল খুব বেশি। দেখা যেত, যে সময়ে আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা, সেই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই পড়াশোনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকত না। এই বিষয়টা ধীরে ধীরে আরও প্রকট হয়ে উঠেছিল।’

১৯৮৫-৮৬ সেশনে তারেক রহমান, বা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে, আপনার সেশনে পড়াশোনা করতেন, এ বিষয়টি কি আপনার জানা ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার তার লেখাপড়ার জীবন সম্পর্কে খুব বেশি জানা নেই। আমি নিজে তখন একজন স্টুডেন্ট হিসেবে বেশ নিভৃত ধরনের ছিলাম, বাইরের কর্মকাণ্ডে খুব একটা যুক্ত ছিলাম না। রাজনৈতিক বিষয় তো একেবারেই না। অনেক ঘটনাই হয়তো চোখেই পড়েনি। তবে ওই সময়টা এমন ছিল যে, পড়াশোনা করার মতো পরিস্থিতিই অনেক ক্ষেত্রে ছিল না।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল প্রবল। ক্লাস ও পরীক্ষা সময়মতো হওয়ার যে স্বাভাবিক পরিবেশ, সেটা তখন অনুপস্থিত ছিল। তখন তো হলে হলে দখল নিয়ে গোলাগুলিও চলতো। একেকটা হল একেকটা রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকতো। এক হল থেকে আরেক হলে গোলাগুলি হতো—এমন ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতো। তাদের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে তারা বঞ্চিত হতো। তখনকার বাস্তবতা ছিল এমনই।

ওই সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেশনজট ছিল খুব বেশি। দেখা যেত, যে সময়ে আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা, সেই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই পড়াশোনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকত না। এটা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠেছিল—ড. হিমাদ্র শেখর চক্রবর্তী, তৎকালীন সময়ের ঢাবি শিক্ষার্থী 

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে  ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা ১৯৮০’র দশক এবং  তদপরবর্তী সময়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তখনকার সময়ে অনেক রাজনীতিবিদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ শিক্ষাজীবন বা উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশ এতটাই ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ ছিল যে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন ঠিকই কিন্তু ডিগ্রী অর্জন করতে পারেনি । যারা রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও প্রকট ছিল।’

তারেক রহমান একজন রাজনীতিবীদ, ‘যিনি জিয়া পরিবারের সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উচ্চশিক্ষা হয়ত যথাযথভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি তিনি শেষ করতে পারেননি। তবে এটি এমন আলোচনার বিষয় নয়।’

টিএসসিতে প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্নার সঙ্গে তারেক রহমান

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও দেখা যায়, রাজনৈতিক উচ্চপদে আসার জন্য ফর্মাল ডিগ্রি অপরিহার্য নয়। যেমন, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য কোনো ফরমাল ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। আমেরিকার  ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বা প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের মতো ব্যক্তিদের উচ্চশিক্ষা বা কলেজ ডিগ্রি ছিল না। এমন আরও অনেক উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা বা না থাকা চূড়ান্ত বিষয় নয়।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জন্মগ্রহণ করা এই রাজনীতিবিদও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি সলিমুল্লাহ হলে ছিলেন এবং প্রথম আইন বিভাগে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশুনা করেছেন। তবে বিভিন্ন কারণে তিনি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এটি তার শিক্ষা, জ্ঞান বা দক্ষতার অভাবকে বোঝায় না। বরং রাজনৈতিক পরিবেশ বেড়ে উঠা এবং পারিবারিক দায়িত্বের কারণে এমনটি ঘটেছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার শিক্ষাজীবন মূলত বাস্তব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জীবন-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পূর্ণ না হওয়া কোনো অযোগ্যতার মানদণ্ড নয়। তার রাজনৈতিক দক্ষতা, নেতৃত্ব গুন এবং বোঝাপড়ার ক্ষমতা অনেক উঁচু মানের। উচ্চশিক্ষা আংশিক সম্পন্ন হওয়া তার রাজনৈতিক সক্ষমতা বা যোগ্যতাকে কমিয়ে দিয়েছে বলা অবান্তর ।’

তারেক রহমানের সরাসরি শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তাল ও অস্থিতিশীল। এটিকে তিনি ‘টারময়েল’ অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই তারেক রহমান তার অনার্স পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারেননি।

নুরুল আমিন জানান, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ব্যাপক প্রভাব ছিল। ক্যাম্পাসে গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটতো, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল। পুরো দেশজুড়েই রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যা পড়াশোনার জন্য একেবারেই অনুকূল ছিল না।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে হওয়ায় তারেক রহমানের জন্য সে সময়ে প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। তার নিরাপত্তা নিয়ে ছিল গুরুতর শঙ্কা। সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং গোলাগুলির মতো প্রতিকূল পরিবেশ ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে হিসেবে তার জন্য নিয়মিত ক্লাস করা ছিল খুবই কঠিন ও বিপজ্জনক।’