Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১১ দলীয় জোটের জট কাটছেই না। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমঝোতায় আসতে পারেনি এই জোট। মূলত চাহিদার আলোকে আসন না পেয়ে শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

দফায় দফায় আলোচনা শেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেন ১১ দলের নেতারা। এই বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে চেয়েছিল দলগুলো। যার কারণে জামায়াতসহ ১১ দলের মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণাও হয়নি। এ জন্য গতকাল বিকেলে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পরে স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—দুই দলই এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন কমপক্ষে ৫০টি আসনে ছাড় চায়। বিপরীতে জামায়াত তাদের ৪৫টি আসন দিয়ে বাকি ৫টি আসন ‘উন্মুক্ত’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন মোট আসনের ১০ শতাংশ (৩০টি) উন্মুক্ত রাখার পাল্টা দাবি তুলেছে, যাতে জামায়াত রাজি হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের নীতিনির্ধারকদের মতে, জামায়াত যদি ১৯০টি আসনে অনড় থাকে, তবে তারা নিজেরাও অন্তত ৬০-৭০টি আসনে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নেবে।

সমঝোতা ব্যর্থ হলে ইসলামী আন্দোলন অন্য দলগুলোকে নিয়ে আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তর্ভুক্ত ৬টি দলসহ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি ও জাগপা) বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য—জামায়াতকে ১৫০ আসনে সীমাবদ্ধ রেখে বাকি দলগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা। ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, ‘২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’

আসন সংখ্যার পাশাপাশি ক্ষমতার বন্টন নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন চায় সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন তা এখনই স্পষ্ট করতে, যা জামায়াত ‘অপরিণত’ চিন্তা বলে মনে করছে। এছাড়া এবি পার্টি বা এলডিপি’র মতো দলগুলোকে জোটে আনার ক্ষেত্রে জামায়াত এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ইসলামী আন্দোলন।

মঙ্গলবার রাতে রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃণমূল নেতারা জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ‘ওয়ান বক্স’ বা ‘একবক্স’ নীতি বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলনই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল, কিন্তু এখন বড় দল হিসেবে জামায়াত একক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে।

জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন অনড় থাকলে তাদের ছাড়াই বাকি ৯টি দলকে নিয়ে জোট চূড়ান্ত করা হতে পারে। তেমনটি হলে ছোট দলগুলো আরও বেশি আসনে ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছি। সেটি গণমাধ্যমে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। এখন এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’ এ সময় ইসলামী আন্দোলনের জোটে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে না।

যদিও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কথা জানালেন আর কিছু বলতে রাজি হননি। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ ও যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসুদের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তারাও রিসিভ করেননি।