আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন। তিনি নিজের ক্ষমতাবলে কোনো মামলার বিচারিক আদালত নির্ধারণ করতে পারেন। সেভাবেই তিনি মামলাটির নথি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেছেন।
“তবে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন মামলার বাদী ও আইনজীবী আলিফের বাবা। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোন আদেশ আসেনি।”
বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন ২০০৩ এর ৮ ধারা অনুসারে কোনো জেলা জজ বা দায়রা জজ শুনানির জন্য প্রস্তুত কোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন। এ ধারা অনুসারে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আলিফের বাবা ও এই মামলার বাদি জামাল উদ্দিন। ওই দিনই জামাল উদ্দিন মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।
আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম তুলে ধরে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৭ জন আসামি পলাতক।
শীর্ষনিউজ