শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ৪৪ বছর পর আবারও ফিরছে। সবকিছু ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরই এই পদ্ধতি পুনরায় চালু করতে চায় বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’ এর একটি খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগ। খসড়ায় প্রতিটি গ্রামে একটি করে ‘গ্রাম সরকার’ ও এর মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম সরকার হবে ১৭ সদস্যের। সে হিসেবে সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়নের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ লাখ নেতৃত্বস্থানীয় লোকের নেতৃত্বে গ্রাম সরকার গঠিত হবে। একেবারেই প্রান্তিক পর্যায়ের এ শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সংখ্যাধিক্য থাকবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। নতুন করে এ ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। তাদের মতে, এই গ্রাম সরকার ব্যবস্থায় বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হবে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদেরকে গ্রাম সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মুরব্বি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিকদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থাও খাল খনন কর্মসূচির মতোই গ্রামে গ্রামে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। তাই এবার নির্বাচনি ইশতেহারে ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, গ্রাম সরকার কার্যকর হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সরকারি সেবার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও জুয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমনটাই মত তাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান কালবেলাকে বলেন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা আবারও চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিএনপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের কল্যাণে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালুর মতোই গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে সরকারের আরেকটি মাইলফলক অর্জন।
তিনি বলেন, গ্রাম সরকারের স্থানীয় পর্যায়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালবেলাকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে যারা গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে খুবই অল্পসংখ্যক মানুষ জীবিত আছেন। এবারও তাদেরকে নিয়ে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে। এ ছাড়া তাদেরকে দিয়ে গ্রাম সরকারের নির্বাচিতদের ওরিয়েন্টেশন (পরিচিত সভা) করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে তারা কীভাবে কাজ করেছেন তা তুলে ধরা হবে। এজন্য বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে দলের নতুন নেতৃত্বে যারা আছেন তাদেরকে এই সরকারের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান, ধ্যান-ধারণা ভালো, সৎভাবে কাজ করে আসছেন তাদেরকে নিয়ে গ্রাম সরকার গঠন করা হতে পারে।
বর্তমানে সারা দেশে ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ৯টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। সে হিসাবে সারা দেশে ৪১ হাজার ১১২টি ওয়ার্ড আছে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠিত হবে। একটি গ্রাম সরকারে সরকারপ্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক গ্রাম সরকার সর্বমোট ১৭ সদস্যের হবে।
তবে গ্রাম সরকারের সদস্যদের সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনগণের মতামত-পরার্মশ নিয়ে এই সরকার গঠন করা হবে।
বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাবেন না, তাদের মধ্য থেকেও যোগ্য ব্যক্তিদের গ্রাম সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।
জিয়াউর রহমানের আমলে প্রবর্তিত গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে ২০২৬ সালের নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোর কিছু মিল থাকলেও সদস্যসংখ্যা ও গঠনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থায় একজন প্রধান ও ১৩ জন সাধারণ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ৬ জন নারীকে সদস্য করা বাধ্যতামূলক ছিল। আর ২০০৩ সালের প্রস্তাবিত আইনে ১৫ জন করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত নতুন আইনে তা বাড়িয়ে ১৭ জন করা হয়েছে।
যেভাবে গঠন হবে গ্রাম সরকার: একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সাধারণ সদস্য থাকবেন গ্রাম সরকারে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন গ্রাম সরকার প্রধান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হবেন উপদেষ্টা। ১৫ জন সদস্যের মধ্যে দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি/ সমাজসেবক; প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুজন (একজন পুরুষ ও একজন নারী), দুজন কৃষক, নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, পল্লী চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক, যুবক প্রতিনিধি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য (যদি থাকে)। তবে শর্ত অনুযায়ী, কোনো সদস্য না থাকলে গণ্যমান্য ব্যক্তি/ সমাজসেবকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। তবে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের কমপক্ষে ১০ শতাংশের ভোটারের হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার থাকবে। আইনের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক হিসেবে এই সরকার কাজ করবে। এ সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। প্রথমবার গ্রাম সরকার গঠনের তারিখ সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের পর সদস্যদের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার কথা বলা আছে খসড়ায়। গ্রাম সরকারের মোট সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে প্রতিটি সভার কোরাম হবে।
গ্রাম সরকারের প্রধানের কাছে লিখিত পত্র জমা দিয়ে যে কোনো সদস্য পদত্যাগ করতে পারবেন। পত্র পাওয়ার দিন থেকেই তা কার্যকর হবে। কোনো সদস্য পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্য পদ শূন্য হবে। এ ছাড়া অসদাচরণের দায়ে দোষী হলে ধারা-৯ অনুযায়ী অযোগ্য হবে।
গ্রাম সরকারের কার্যাবলি: প্রতিটি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানের হাটবাজার বা এলাকায় হবে গ্রাম সরকারের কার্যালয়। গ্রামের রাস্তা-ঘাট ও কালভার্ট উন্নয়নের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা প্রণয়ন, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার দায়িত্ব থাকবে গ্রাম সরকারের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে গ্রাম সরকারের সদস্যরা। কৃষি উপকরণের সংকট সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
নতুন খসড়ায় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণ এবং তথ্য সংগ্রহে সহায়তা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্যক্রমে সহযোগিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহায়তা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের আমলে যেভাবে শুরু: জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮০ সালে প্রথম গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ওই বছর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় স্বনির্ভর গ্রাম সরকার বিধিমালায় একজন প্রধানসহ ১৪ জন সদস্য ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, স্বাধীনতার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দারিদ্র্য, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় গ্রাম সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গঠন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ভেবেছিলেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিরাপত্তা জোরদার, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। কেবল গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করবে।
তারা জানান, ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৬৮ হাজার গ্রামে এই গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করা ছিল। তখন গ্রাম্য এলাকায় এ সরকার ব্যবস্থা চাঞ্চল্য এনে দেয়। এই সরকার ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গণশিক্ষা বা নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবার পরিকল্পনা জোরদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ছোটখাটো বিরোধের মীমাংসা করা। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চালু করা হয়েছিল। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এ ব্যবস্থা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
১৯৯১ সালে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় ফিরলে এই ব্যবস্থা আবারও চালুর উদ্যোগ নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু নানা কারণে সেই সরকারের আমলে উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখেনি। পরর্বতীতে ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলেও গ্রাম সরকার আর চালু হয়নি। তবে ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ আইন করে। এই আইনে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা এবং ১৩ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য প্রধান এবং সংরক্ষিত সদস্য উপদেষ্টা হতেন। বাকি ১৩ জন সদস্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে মনোনীত হওয়ার কথা ছিল।
২০০৩ সালে আইনটি প্রণয়নের পরপরই আদালতে রিট করার পর ২০০৫ সালের ২ আগস্ট হাইকোর্ট গ্রাম সরকার আইনকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর ঘোষণা করেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এরপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি আইনগতভাবে বাতিল করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ চালু করার উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনরায় চালু করার প্রস্তাব ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় গ্রাম সরকার আইন-২০২৬-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মতামতের জন্য খসড়াটি মন্ত্রণালয়ে ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।