বিএনপিকে জড়িয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বললেন, ‘একদিকে তিনি (সালমান মুক্তাদির) লাইভে বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি, চাইলে তিনি দিতেন। আবার বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলেছেন। এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর চালানো হয়। তখন তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
লাইভে তার নাম উল্লেখ করে কথা বলার বিষয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘আমাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলতেই পারেন। এটা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা। তবে আমার প্রশ্ন হলো, যিনি অভিযোগ করছেন, তিনি কি মামলা করেছেন? তিনি তা করেননি।’
নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সালমান মুক্তাদিরকে মামলা করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বললেন, ‘তিনি যদি নির্দিষ্ট কোনো মামলা করেন, আমরা সেটা তদন্ত করে দেখতে পারি। এই ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী হয়েছেন, সেটি আমরা দেখেছি। আমরা প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আরও বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। এ বিষয়ে মামলা ও জিডির প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।‘
ঘটনাস্থল ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে একটি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার পক্ষের বেশ কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘তারা সেখানে গিয়ে অনেক ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেডের একটি স্থাপনা ছিল। সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের কাজ হতো বলে জেনেছি। সেটিও ভাঙচুর করা হয়েছে।’
গতকাল শনিবার রাতে স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বললেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।’
তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছ?’
এদিকে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় পুলিশের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। অবহেলার কারণে শাহ্ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানালেন, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুষ্কৃতকারী বা দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, আমরা সেটা আমলে নেব না। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’