ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডাকসু জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম মূলত ছাত্রদলের ভেতরে শিবিরের গুপ্ত এজেন্ট এমন একটা বয়ান বাজারে ছাড়তে চান বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, ‘হামিমকে গুপ্ত হিসেবে সিলেক্ট করার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো তার চাচার ব্যাকআপ। এরকম একটা বয়ান বাজারে ছড়িয়ে দিলে কেমন হয়। ছাত্রদল যেমনটা করে আরকি।’
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে রায়হান উদ্দীন লেখেন, “হামিম মূলত ছাত্রদলের ভেতরে শিবিরের গুপ্ত এজেন্ট। যতটুকু জানি তার হলের বড় ভাই এসএম ফরহাদের সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক। সে শিবিরকে ছাত্রদলের সকল প্ল্যানিং ও স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে তথ্য দিবে এই শর্তে তাকে শিবিরের চরম বিরোধিতা করার সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। হামিম সেই দায়িত্বই আমানতদারিতার সাথে পালন করছে।”
তিনি বলেন, “হামিম বারবার বলে যৌবনের প্রথম প্রেম ভুলা যায় না। হামিমের প্রথম প্রেম শিবিরকেও সে ভুলতে পারেনি। ফলে যতই শিবিরের বিরোধিতা করুক তলে তলে সে শিবিরকেই সার্ভ করে। শিবিরের উদ্ধারকারী জাহাজ।”
তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত এই বিষয়টি ছাত্রদলের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু, চাচা বিএনপির শীর্ষ নেতা হওয়ার জোরে আবার ফেরত আসে।”
রায়হান উদ্দীন আরও বলেন, “হামিমকে গুপ্ত হিসেবে সিলেক্ট করার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো তার চাচার ব্যাকআপ। (এরকম একটা বয়ান বাজারে ছড়িয়ে দিলে কেমন হয়। ছাত্রদল যেমনটা করে আরকি।)”
সম্প্রতি শেখ তানভীর বারী হামিমের ২০১৪ সালের কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুরোনো এসব পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্যের পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবির ও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়।
হামিম ২০১৪ সালে পুরোনো ফেসবুক পোস্টে ইবাদুল হক রুবাত সিং নামে এক ব্যক্তিকে ট্যাগ দিয়ে লিখেছিলেন, “সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, মানুষের পরিচয়, আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত, মহান আল্লাহ্ অসংখ্য ছোট-বড় সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষকেই সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব সৃষ্টিকেই তিনি একটি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে তিনি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ যা চায় তাই করতে পারে। এত বড় মর্যাদার সাথে তিনি মানুষকে করেছেন খলীফা বা প্রতিনিধি...।”
পুরোনো ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন “আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ছেলে মাসুদ সাঈদী যখন জিয়ানগর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন, অসংখ্য মানুষ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে মাসুদ সাঈদীকে জড়িয়ে ধরে একটি কথাই জিজ্ঞেস করেছিল, ‘সাঈদী হুজুর কেমন আছেন? সাঈদী হুজুরকে কি ওরা ফাঁসি দিয়ে দেবে? কোরআনের মাহফিলে সাঈদী হুজুরকে কি আমরা আবার ফিরে পাব?’ যারাই প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কান্নায় নিজেকেও শামিল করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সাঈদী সাহেবের প্রতি কোরআনপ্রেমিক বীর জনতার এই নিষ্কলুষ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা বৃথা যায়নি। তার নয়নমণি যোগ্য ছেলে জিয়ানগর উপজেলায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে, এ বিজয় শুধু সাঈদী পরিবারের বিজয় নয়, এ বিজয় লক্ষ-কোটি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিজয়।”
অন্য আরেকটি পোস্টে তানভীর বারী হামিম লেখেন, “সরকারি বিএল কলেজের সভাপতি, সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক তো আগে থেকেই কারাগারে আছে, আজ গ্রেপ্তার হলো অফিস সম্পাদক। ইয়া আল্লাহ, ৫ শহীদের স্মৃতিবিজড়িত সরকারি বিএল কলেজ সংগঠনকে তুমি হেফাজত করো।”
প্রসঙ্গত, শেখ তানভীর বারী হামিম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আসার পর তার পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট সামনে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি ও মার্চে করা কয়েকটি পোস্ট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও তার ছেলে মাসুদ সাঈদী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্য রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিএল কলেজের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একটি পোস্ট করেন হামিম।