জ্বালানি অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির মধ্যে সরকার দেশের ব্যাংক খাতকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিতে নতুন ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাব্য উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে নয় মাস করার চিন্তা ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার পরিপন্থি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব অভিযোগ করেন।
পোস্টে হাসনাত উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ তিন মাস থেকে নয় মাসে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কম দেখানো সম্ভব হলেও এতে ব্যাংকের একটি টাকাও আদায় হবে না।
হাসনাতের ভাষ্য, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তার মতে, কঠোর শ্রেণিকরণ বিধি ও সম্পদমান নিরীক্ষার ফলে এতদিনের গোপন সমস্যা সামনে এসেছে এবং এটিকে নীতির ব্যর্থতা নয়, বরং সফলতা হিসেবে দেখা উচিত।
পোস্টে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, দেশটি ৯০ দিনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পদমান নিরীক্ষা, দেউলিয়া আইন ও সময়াবদ্ধ পুনরুদ্ধার কাঠামোর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়েছে। একইভাবে ভিয়েতনামও খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা শিথিল না করে ঋণ আদায়ের আইনি সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশের জন্য ছয় দফা দাবি তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৯০ দিনের শ্রেণিকরণ বিধি বহাল রাখতে হবে, ২০২৭ সালের মধ্যে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে হবে, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ঋণ আদায়ের আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্ভাব্য এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বচ্ছতার শাস্তি হিসেবে স্বচ্ছতাকে বাতিল করবেন না। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলে সংকট আড়াল করার উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন।