লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত মানবিক সহায়তা বিতরণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন ও হুইলচেয়ার বিতরণে দলীয় নেতা-কর্মী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ‘উপজেলা প্রশাসন, রায়পুর’-এর আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত মানবিক সহায়তার আওতায় উপজেলার প্রায় ৪৮৬ জন গরিব, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এ সহায়তা বিতরণ করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া একই সময়ে দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে বিতরণ কার্যক্রমের ছবি ও তথ্যসহ একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ছবিতে সহায়তা গ্রহণকারীদের মধ্যে রায়পুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে থাকা কয়েকজন নেতার উপস্থিতি দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছাত্রদলের সভাপতিসহ একাধিক দলীয় নেতার নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তার তালিকায় কীভাবে দলীয় পদধারী ও স্থানীয়ভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা স্থান পেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ও ছবিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ মন্তব্য করেন—“এখানে প্রকৃত গরিব কে?”
অন্যদিকে, দরিদ্র ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিতরণ করা সেলাই মেশিনের একটি পাওয়ার ঘটনায়ও নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওই কর্মসূচি থেকে একটি সেলাই মেশিন গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনুদান বিতরণের স্বচ্ছতা ও উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তালিকায় থাকলে দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে, বিতরণ কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন, রায়পুরের ফেসবুক পেজ থেকে অনুদান বিতরণসংক্রান্ত পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া বা হাইড করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে পোস্টটি কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।