Image description

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে ইসি বলছে, ঘোষিত তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য ও মতামত নেওয়ার পর সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’

এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে ইউপি ভোট নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে এবং সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর শুরু হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসির এই ঘোষণার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’

সরকারের সঙ্গে মতভেদের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউপি নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিভিন্ন বিষয়ে সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

 

সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও কথা হয়নি। সচিবালয়ের সঙ্গে সাধারণত এ ব্যাপারে কথা হয়।’

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ইসির সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই ব্যাপারে আপনি আমাদের সচিব সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন, হি ইজ দ্য কম্পিটেন্ট ম্যান টু গিভ অ্যান একুরেট অ্যানসার (উনি সঠিক উত্তর দিতে পারবেন)।’

ইউপি নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো “টেন্টেটিভ ডেট” (সম্ভাব্য তারিখ)। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা ও তথ্য পর্যালোচনার পর সম্ভাব্য তারিখগুলো চূড়ান্ত করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান। ছবি: টাইমস

পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন যে তারিখ ঘোষণা করেছে সেই তারিখেই ভোট হবে নাকি এটা পরিবর্তন হবে সে ব্যাপারে সরকার আলোচনা করবে।

মঙ্গলবার নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর করতে হবে।’