সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনের ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগরে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।
মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এ আইনের প্রতিবাদ করা শুধু আমাদের নয়, সব মুসলমানের দায়িত্ব। বাবার সম্পত্তি কীভাবে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, তা কোরআন–হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা করা আছে। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। তাই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে আইন প্রণয়ন করা কোরআন সুন্নাহের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।’
তার ভাষ্য, ‘আইনে বলা আছে বাবা-মা বৃদ্ধ হওয়ার আগে তার সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেবেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ভোগ করবেন। আমাদের দেশে এমনিতেই কন্যাসন্তানদের ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করা হয়। এই আইনের ফলে দেখা যাবে বাবা-মা পুরো সম্পত্তিই ছেলেসন্তানকে দিয়ে দেবেন। এতে করে কন্যাসন্তানরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।’
এ আইন পাস করায় আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘এ আইন বাস্তবায়িত হয়ে গেলে মানুষ কোরআন-হাদিসের আইনই একদিন ভুলে যাবে। সরকারের উদ্দেশ্য কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন মানুষকে পালন করতে বাধ্য করা।’
সরকারকে হুঁশিয়ারি করে জালালুদ্দিন আহমদ আরও বলেছেন, ‘ইসলামি স্কলারদের পাস কাটিয়ে করা এ রকম একটি আইন আমরা মানি না। অনতিবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে দেশের জনগণ সরকারের সঙ্গে ভালো আচরণ করবে না।’
সম্পত্তি দানের পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন— এমন বিধান রেখে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল গত ৬ সেপ্টেম্বর পাস হয় জাতীয় সংসদে।
ওইদিন বিলটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হলে, সেটিকে ‘ইসলামি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আখ্যা দিয়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলগুলো। ওয়াকআউট করার আগে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘সরকারের একতরফা এ আইনের অংশীদার হতে চাই, তাই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করছি।’
তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, ‘নতুন আইনের বিধান হেবা বা মুসলিম আইনের অধীন অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলবে না।’ পরে কণ্ঠভোটে পাস হয় বিলটি।