ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় পদ হারিয়েছেন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন মঞ্জু। ফেসবুকের ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক গ্রুপিং ও লবিংয়ের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজি ও সদস্যসচিব কাজী অনিকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে হাসনাইন মঞ্জুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বহিষ্কারের বিষয়ে হাসনাইন মঞ্জু বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত রোষানল, রাজনৈতিক গ্রুপিং ও লবিংয়ের শিকার হয়ে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তিনি বিএনপি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং দলের দুর্দিনেও অনলাইন ও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
হাসনাইন মঞ্জু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘রাজনীতি করতে হলে জনগণের সঙ্গে মিশতে হবে’—এই বক্তব্যে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ কারণে ছোট-বড় সবার সঙ্গে মিশেছেন। নিজের জনপ্রিয়তার কারণে মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই দলের কয়েকজন সহকর্মী তাকে প্রতিহিংসার চোখে দেখতে শুরু করেন বলে দাবি তার।
এ ছাত্রদল নেতা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুর ইসলাম নয়ন সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং অন্যায় প্রতিরোধের কথা বলেন। সেই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তার এসব কর্মকাণ্ড দলের কিছু সহকর্মীর স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাসনাইন মঞ্জু তার ফেসবুক পোস্টে বিএনপির সমালোচনা করে লেখেন, বিএনপি দলটা বড্ড বেঈমান, এই দল সুসময়ে চরিত্র হারায়। চরফ্যাশনে মাননীয় এমপি মহোদয়কে নিজেদের মতো করে বুঝিয়ে অফিস মেইনটেইন করার নামে দুই ** (অশ্লীল গালি) বিএনপিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এরা উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে শুরু করে সব মহলের রাজা।
তিনি অভিযোগ করেন, এদের মন মতো নিয়োগসহ মাঠে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা সব চালিয়ে লুটেপুটে খেয়ে বেড়াচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন, এরা বিদেশের মাটিতে বাড়ি-গাড়ি করার স্বপ্ন দেখতেছে হয়ত!? দুদক আর এনএসআই চরফ্যাশন উপজেলার সরকারি বরাদ্দগুলো দয়া করে খতিয়ে দেখুন। ভুল না হলে এটাই সত্যি শতকরা ১৫ শতাংশ নামে মাত্র কাজ করে বাকি টাকা কারা গায়েব করে ফেলছে, এসব বিষয় খতিয়ে দেখুন। সরকারের বদনাম হচ্ছে, বিএনপি দলের বদনাম হচ্ছে সহ্য হয় না।
পোস্টে তিনি বিএনপি নেতা নয়ন সাহেবের উদ্দেশে লেখেন, নয়ন সাহেব, ভেবে দেখুন চরফ্যাশন কি হচ্ছে?? এই দিনও দিন না, দূর সময় সামনে আছে তো। দলের সুসময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে এরকম বৈষম্য করার কারণে গজব পড়বে কিন্তু। দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীরা সকল কিছু থেকে বঞ্চিত, সব কিছুতে বৈষম্য এসব কেন?খলিফাবিহীন চরফ্যাশন বিএনপি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এখন দেখি এ যেন এক খলিফাদের মহারাম রাজত্ব চলছে। খলিফা খাইয়া ভাগবে, কর্মী কিন্তু মাঠে থাকবে।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদস্য সচিব কাজী অনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতির অনুমতি ছাড়া আমি কিছু বলতে পারব না। এরপর তিনিও ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।