দল থেকে বহিষ্কারের পর এবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ কমিটি—দুই জায়গা থেকেই বাদ পড়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে কমিটি পুনর্গঠনের সময় জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি থেকে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়। এদিন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করে গাজী নজরুল ইসলামের জায়গায় জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছকে সদস্য করা হয়েছে। একই কমিটিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের পরিবর্তে জামায়াতের রায়হান সিরাজীকে যুক্ত করা হয়েছে।
বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন রোকেয়া বেগম। সভাপতি হিসেবে মনিরুল হক চৌধুরী বহাল রয়েছেন। এর আগে ১৪ জুলাই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তখন বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামকে রাখা হয়। তবে ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১২ মার্চ জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি থেকেও গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত বিশেষ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবদুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমিন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও নাজিবুর রহমান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এর আগে কমিটির সভাপতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ায় সভাপতির পদটি শূন্য হয়।
সম্প্রতি জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।পুনর্গঠিত কমিটিতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ কাজী রফিকুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম খান, ফখরুল ইসলাম, শওকতুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, সাইফুল আলম ও রাশিদুল ইসলাম সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
এর আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ায় কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নতুন কমিটিতে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ইমরান আহমেদ চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, মনজুরুল ইসলাম, হাসান রাজীব প্রধান, নাজিবুর রহমান, আখতার হোসাইন ও আল ফারুক আব্দুল লতিফ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জায়গায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদাধিকারবলে এই কমিটির সভাপতি।
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পরিবর্তন করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বহাল রয়েছেন। বিরোধী দলের সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের পরিবর্তে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেয় দলটি। এর পর থেকেই সংসদীয় বিভিন্ন দায়িত্বে তার অবস্থান নিয়ে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের বিশেষ কমিটি দুই কমিটি থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।