প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। সফরের তারিখ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশ পেলেও আজ শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সফরটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়নি। এমন অবস্থার মধ্যেই নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সফর ঘিরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সফর কি আসলে চূড়ান্ত হয়েছিল, নাকি ভারতের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই প্রস্তুতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলেছিল?
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ২২ আগস্ট শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না। কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তিটির ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ভবনে এমন একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল, যা সাধারণত কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়টিই ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক করে তোলে। কারণ তখন পর্যন্ত ঢাকা বা নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—কোনো পক্ষই তারেক রহমানের ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে নয়াদিল্লি যেতে পারেন। অর্থাৎ সফরটি সম্ভাব্য হলেও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
এরপর বেলা তিনটার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন আরেকটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে আগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহারের কথা জানায়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনের নতুন বার্তায় বলা হয়, সকালে প্রকাশিত ‘শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হচ্ছে না’ শিরোনামের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।
ঘটনাটিকে তাই নিছক একটি প্রশাসনিক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও এর কূটনৈতিক তাৎপর্য উপেক্ষা করা কঠিন। কারণ, বিদেশি কোনো সরকারপ্রধানের সফরের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রস্তুতি সাধারণত অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের বিষয়। সেই প্রস্তুতির তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসা মানে সফরের বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রস্তুতি যে অনেকটা এগিয়েছে, তার একটি দৃশ্যমান ইঙ্গিত পাওয়া। কিন্তু একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া বোঝাচ্ছে, সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও ঘটনাটিকে দুই দেশের মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দেখেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘটনা তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে রয়টার্স আজ ঢাকার অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশ এখনো সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেছেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
এই জায়গাটিই শুক্রবারের ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবন এমনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন। অন্যদিকে ঢাকার বক্তব্য—সফর এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে একটি দৃশ্যমান ফাঁক তৈরি হয়েছে।
এ ফাঁকের পেছনে মূল কারণ হিসেবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটিই সামনে আসছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই তার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডের বিষয়টিও দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে আছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা আইনগত কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করছে।
এর মধ্যে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনাও সম্পর্ককে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। বাংলাদেশ সরকার ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। গত ১৬ আগস্ট রয়টার্সও জানিয়েছিল, ঢাকার পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সফরের আগে আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
তবে এর বিপরীতে দিল্লির বার্তাগুলোতে সফরটি এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও স্পষ্ট। ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী গত ১৯ আগস্ট বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে ‘স্মরণীয়’ করতে চান। তিনি দুই দেশের নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে উভয় দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন।
ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনাকে একেবারে বিপরীত কোনো বার্তা হিসেবেও দেখা যায় না। বরং এতে একসঙ্গে দুটি বার্তা থাকতে পারে। প্রথমত, তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা দেওয়ার প্রস্তুতি দিল্লি নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভারতও বিষয়টিকে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করতে চাইছে না।
কূটনীতির ভাষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। একটি সফরের প্রস্তুতি নেওয়া এবং সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যায়, সফর হলে তার আনুষ্ঠানিকতা কী হতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পর্যায়ে চূড়ান্ত সম্মতি বা সময়সূচি প্রকাশের পর্যায়ে তখনো পৌঁছানো যায়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতিও এ ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। ডেইলি স্টার ১৭ আগস্ট লিখেছিল, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয়ে দিল্লির পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। একই সঙ্গে পত্রিকাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক সংকট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেছিলেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লি—দুই পক্ষই সম্পর্কের অবনতির মূল্য সম্পর্কে সচেতন এবং বাস্তববাদী অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবিরও মনে করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কেবল শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা করার সফর হওয়ার কথা নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং পানি বণ্টনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় থাকার কথা বলা হয়েছে। তিস্তা চুক্তি ও অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনাও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হতে পারে।
এই বাস্তবতাই সম্ভবত দিল্লির জন্য তারেক রহমানের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই সমীকরণ আর আগের জায়গায় নেই। নতুন সরকারকে এড়িয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পরিচালনা করা ভারতের জন্যও বাস্তবসম্মত নয়। ফলে দিল্লির সামনে এখন সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে গত শুক্রবার জানিয়েছে, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের পরিবেশের মধ্যেই তার এই তৎপরতা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ভবনের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা নয়; বরং একই সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও সক্রিয় রয়েছে।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সফর নিয়ে কিছু বলা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে রয়টার্সকে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারকে সবচেয়ে যুক্তিসংগতভাবে দেখা যায় একটি ‘আগাম প্রকাশ’ হিসেবে। সফরের সম্ভাবনা এবং রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার প্রস্তুতি বাস্তব ছিল—কিন্তু তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার সময় এখনো আসেনি। দিল্লি সম্ভবত একই সঙ্গে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি এবং ঢাকার সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা—দুটিই সামলে নিতে চাইছে।
আর ঢাকার জন্য ঘটনাটি একটি ভিন্ন বার্তা বহন করতে পারে। ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র তারেক রহমানকে অভ্যর্থনার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় দিল্লির আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ঢাকাকে এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, সফরের রাজনৈতিক শর্ত ও কূটনৈতিক পরিবেশ এখনো আলোচনার অংশ।
তাই শুক্রবারের এই অস্বাভাবিক ঘটনা থেকে আপাতত যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো—তারেক রহমানের ভারত সফরের দরজা বন্ধ হয়নি; বরং সফরের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু দরজাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, পারস্পরিক আস্থা, সম্মানজনক আমন্ত্রণ এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফলের ওপর সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের এক ঘণ্টার ব্যবধানে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রত্যাহার সেই অনিশ্চয়তাকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, দিল্লি সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চাইছে যে তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে ভারতের দরজা খোলা আছে, এমনকি রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার প্রস্তুতিও রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে সফরটি যেন রাজনৈতিকভাবে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ঘোষণা না হয়ে যায়, সে বিষয়েও সতর্ক নয়াদিল্লি। আর ঢাকার জন্য মূল প্রশ্নটি এখনো একই—রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে ভারত কতটা প্রস্তুত এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগগুলোর বিষয়ে দিল্লি কী বাস্তব পদক্ষেপ নেয়।