ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৩২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য ঘোষিত এই কমিটির সহ-সভাপতি পদে এমন একজন ব্যক্তির নাম দেখা গেছে, যিনি প্রায় তিন বছর আগেই মারা গেছেন। শুধু তা-ই নয়, পরিবারের দাবি অনুযায়ী মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর। একই কমিটির আরেক সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে। ফলে ছাত্রদলের কমিটি গঠন ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
গত ১৭ আগস্ট ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এম সালাহ উদ্দিন মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিলনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রদলের ৩২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সহ-সভাপতি পদে ৫ নম্বরে নাম রয়েছে শামসুল হুদা মজুমদারের।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফুলগাজীর দরবারপুর ইউনিয়নের পূর্ব দরবারপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা মজুমদার ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর প্রায় ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ মৃত্যুর প্রায় ৩ বছর পর ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট ঘোষিত এই কমিটিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়। উল্লেখ্য, তিনি দরবারপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন মজুমদারের বাবা।
বাবার নাম মৃত অবস্থায় কমিটিতে আসার বিষয়ে সন্তান ফরহাদ হোসেন মজুমদার ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, ‘উপজেলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাড়াহুড়া করে ঘোষণা দেওয়া হলো, তা আমার জানা নেই। হুট করে কমিটি দিতে গিয়েই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’
অন্যদিকে, ঘোষিত কমিটির ৩ নম্বর সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে আব্দুল মোমেন খন্দকার শান্তকে। নথি অনুযায়ী তাঁর জন্মসন ১৯৬১, যা অনুযায়ী ২০২৬ সালে তাঁর বয়স দাঁড়ায় ৬৫ বছর। জানা গেছে, তিনি ফুলগাজীর জিএমহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম উদ্দিনের বাবা।
একটি ছাত্রসংগঠনে যেখানে সবসময় তরুণদেরই নেতৃত্বের গোড়াপত্তন ঘটে, সেখানে মৃত ব্যক্তি এবং ৬৫ ও ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সদস্যপদ ও বয়সসংক্রান্ত নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীর জীবিত থাকা, বয়স এবং সাংগঠনিক অবস্থান সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা এখন বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এম সালাহ উদ্দিন মামুন জানান, ‘আমাদের কাছে সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) জমা ছিল, আমরা সরাসরি দেখেই কমিটি প্রকাশ করেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’