মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ার পর বিএনপি ও সরকারে বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যেই জানা গেছে, সালাহউদ্দিন আহমেদকে দলের মহাসচিব করা হলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে রাজি আছেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার কথা ওঠে। ওই সময় তিনি কিছু না বললেও পরে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে জানান, তাকে মহাসচিব পদে ভাবা হলে মন্ত্রণালয় বদলাতে তার কোনো আপত্তি নেই।
সূত্র আরও জানায়, স্বরাষ্ট্রের বাইরে স্থানীয় সরকার অথবা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিও সালাহউদ্দিন আহমেদের আগ্রহ আছে। তবে পছন্দমতো মন্ত্রণালয় বা মহাসচিব পদের প্রতিশ্রুতি না পেলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেই থেকে যেতে চান।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সোমবার সাংবাদিকরা এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রসঙ্গে টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, “অনেক কথাই শুনছি। তবে সব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনিই ভালো বলতে পারবেন, আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য টাইমস’কে বলেন, “সরকারে সালাহউদ্দিনের ভালোই প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি যে মন্ত্রণালয় চাইবেন, সেটাই হয়তো পাবেন। তবে তাকে দলের মহাসচিব করা হবে কি না, তা জানা নেই।”
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত। কারণ সংসদে বিএনপির দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এছাড়া সংবিধান ও সংসদীয় আইন অনুযায়ী, অন্য জোটের প্রার্থী অলি আহমেদকে ভোট দিলে বিএনপির এমপিদের পদ থাকবে না।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হয়ে মির্জা ফখরুল ইতিমধ্যেই বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ ছেড়েছেন। তবে তিনি এখনও মন্ত্রিত্বে আছেন, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর শূন্য হবে। বর্তমানে তার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মীর শাহে আলম।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের পুরো বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। তিনি ইতিমধ্যে গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন চেয়েছেন, যা মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের গুঞ্জনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসারে, মহাসচিব না থাকলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব সামলান। সেই হিসেবে পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থাকছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদও সহকর্মীদের জানিয়েছেন, কাউন্সিল পর্যন্ত রিজভী দায়িত্ব পালন করলে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে কাউন্সিলে তিনি নিজে মহাসচিব হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছেড়ে দেবেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন টাইমস’কে বলেন, “কাউন্সিল পর্যন্ত রিজভীই ভারপ্রাপ্ত থাকবেন। পরে কে মহাসচিব হবেন তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত, এখন থেকেই এসব আলোচনার দরকার নেই।”
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনার শীর্ষে ছিল না। এমনকি এ পদে তার বিশেষ আগ্রহও ছিল না। বিএনপির আগের মেয়াদে তিনি ছিলেন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। সেই মন্ত্রণালয় ভেঙে এখন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা বর্তমানে শেখ রবিউল আলমের অধীনে। সালাহউদ্দিন আহমেদের আগ্রহের তালিকায় এই দুই মন্ত্রণালয়ও আছে। তবে দলীয় মহাসচিব বা পছন্দের মন্ত্রণালয়ের নিশ্চয়তা না পেলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই থাকতে চান।