Image description

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সদ্যপ্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে আরও অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ যুবদলের নেতারা।

রাজনীতির চরম সঙ্কটকাল ওয়ান ইলেভেন থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর কখনো রাজপথ,কখনো কারাগারে বন্দি নেতাদের মধ্যে অগ্রভাগে থাকা রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ-এসব প্রমাণ করে কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে যুবদলের সদ্যপ্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এ সময় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করেন তিনি।

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই বিপ্লবের সন্তান উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির জন্ম। বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত আছে। 

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে ভরিয়ে দেবে।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের অটুট নেতৃত্বের কারণে দেশে আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও দল কোনো আপসকামিতা বা গোপন আঁতাত করেননি বলে উল্লেখ বিএনপির এই নেতা।

বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।

দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে একটি ‘বড় ও অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

বক্তব্যে ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ৪৫ বছর সে কোথায় ছিল? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?

একইসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সেসময় তিনি অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে। 

একইভাবে জুলাই আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভারতে পালালে তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে-এই বিষয়েও জবাব প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা।