সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিস শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিতর্কের আগুন নিভে যাওয়ার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর একে একে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম ও ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র ভিডিও বার্তা, কাবিননামা, এমনকি চালকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। তবে এসবের মধ্যেই দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে আসা এক নথি এমপির আত্মপক্ষ সমর্থনের পুরো বয়ানকে আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রাপ্ত নথি থেকে জানা যায়, মরিয়ম খাতুন নামের ওই নারীর একটি বায়োডাটায় গত ২২ জুন তারিখে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিজে হাতে সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন। এর ঠিক পাঁচ দিন আগে অর্থাৎ ১৭ জুন মরিয়মের সাথে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে এমপি দাবি করলেও, ২২ জুনের ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা লেখা রয়েছে ‘অবিবাহিত’। বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় স্ত্রীর চাকরির জন্য দেওয়া বায়োডাটায় কীভাবে বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ রয়ে গেল এবং এমপি নিজে সেখানে ‘জোর সুপারিশ’ করলেন, তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
কাবিননামায় দেখা যায়, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়মের সাথে এমপি নজরুলের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মো. আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে সার্বিক বিতর্কের মুখে মুখ খুলেছেন এমপির প্রথম ও তথাকথিত দ্বিতীয় স্ত্রী। এক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম স্পষ্ট জানান, মরিয়মের সাথে তার স্বামীর বিয়ে পারিবারিকভাবে এবং তার সম্মতিতেই হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার হুমকি দেন তিনি।
অপরদিকে অপর এক ভিডিও বার্তায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ও তার বাবা দাবি করেন, এটি রাজনৈতিকভাবে এমপি নজরুলের সম্মানহানির একটি গভীর চক্রান্ত এবং উভয় পরিবারের উপস্থিতিতেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এক ব্যাখ্যায় জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে তার ভাড়াটে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা তাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে এবং পরবর্তীতে আরও কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে ড্রাইভার ওবায়দুল্লাহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সিসিটিভি থেকে চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে প্রথমদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে এআই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও বলে দাবি করা, পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বীকৃতি দেওয়া, কাবিননামার তারিখের সাথে বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ তথ্যের গরমিল এবং গাড়িচালকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে এখনো মামলা না হওয়া—সব মিলিয়ে জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের এই ভিডিও কাণ্ড দিন দিন আরও বেশি নাটকীয় রূপ নিচ্ছে।