কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে এ বিষয়ে প্রথম বৈঠকেই ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে দলগুলোর। এখন নতুন জোট গঠনের বিষয়ে রূপরেখা প্রস্তাব করবে সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী শিগগির পরবর্তী প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে কওমিপন্থিদের হঠাৎ নতুন জোট গঠনের এ উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াত জোটে বিভক্ত হওয়া দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বকীয় অবস্থান গড়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা নিয়ে শরিক ইসলামি দলগুলোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে একসঙ্গে নির্বাচন করলেও আনুষ্ঠানিক জোট না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা বা না করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইসলামি দলগুলোর তেমন কোনো বাধা দেখছেন না কেউ কেউ।
সূত্রমতে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হন। সেখানে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেয়।
অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়া বাকি পাঁচটি দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক ছিল। তবে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন ওই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যায়। আর অঘোষিতভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় খেলাফত আন্দোলন (নির্বাচনের পর ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দেয়)।
ওই বৈঠক শেষে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উপস্থিত সাত দলের নেতারা আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শুক্রবার আমার দেশকে বলেন, জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে এটি বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে। হঠাৎ এ উদ্যোগ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ ছিল। তবে দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। এখন ইসলামি দলগুলোর স্বকীয়তা রক্ষা করে আলাদা শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে অন্য কোনো জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ৩ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ সাত সদস্যের একটি কমিটি এসব প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠক ডাকবে। দ্রুত এ কাজ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ জোটের মূল লক্ষ্য কওমি ঘরানার নিবন্ধিত সাতটি দলকে স্বতন্ত্র ধারায় ঐক্যবদ্ধ করা। তবে এ জোট হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য কোনো জোটে থাকার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন এ উদ্যোগের কারণে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের উদ্দেশ্য কওমি ধারার দলগুলোর দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছাকাছি হওয়া। ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলার বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এই চলার পথ কী হবে, তা সামনে ঠিক হবে। বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।