Image description

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রাম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জামিল হোসেন (৫০) রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এবং বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী (লাল চিহ্নিত)। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত ইউসুফ আলী (লাল চিহ্নিত)। ছবি : সংগৃহীত

 

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

 

নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী আমার শ্বশুরকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। কাজ করতে কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে বাধ্য হন জামিল হোসেন।

 

তিনি আরও জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অস্বস্তি অনুভব করলে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে আসার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর ইউসুফ আলীর চাপে তারা দ্রুত মরদেহ নিয়ে নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন জানান, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটাছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।