Image description

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। সংসদে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জানা যায়, তার জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পরে। একই সঙ্গে তার বাবা-মা দুজনই বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্য গত রবিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা; আমার দাদারা ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

এ বক্তব্যের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বাবার সন্তান হিসেবে দাবি করেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। একই হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মা মোসলমান বেগম এখনও জীবিত আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গে বসবাস করছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন।

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা এখনও আছেন। আমার দাদা যুদ্ধ শহীদ। তিনি আমার বাবার চাচা। আমি বোঝাতে চেয়েছি আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আমি আক্ষরিকভাবে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ তা বোঝাইনি।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে নিজের বক্তব্যে ভুলের কথা স্বীকার করেন তিনি। আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে বলা কথা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবাদকর্মীদের সামনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।