গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো জোটের প্রধান দল হিসেবে ক্ষমতায় আসার বড়সড় বার্তা দেয় জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহার ও প্রচারণাতেও দেখা যায় আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি নতুনত্ব। তবে, ভোটের ফলাফলে জনগণ তাদের সংসদ স্পিকারের বাম দিকে বসতেই রায় দেয়। নির্বাচনে ৬৮ আসন জিতে প্রধান বিরোধীদল হয় জামায়াত। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতে নেয় সরকার গঠন করে বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দল। এই তিনমাসে বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের ভূমিকায় দলটি সন্তুষ্ট। তাদের দাবি— ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা আর জনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিরোধে তারা সক্রিয়।
শপথগ্রহণের তিনমাসেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা— এমনটাই অভিমত জামায়াতে ইসলামীর। গণভোটকে উপেক্ষা করা, স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ, অবাধ চাঁদাবাজি- সর্বোপরি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ জনগণের কাছে দলটিকে ধীরে ধীরে অপ্রিয় করে তুলছে বলেও দাবি তাদের।
ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে সংসদের প্রথম অধিবেশন। যা পরিপূর্ণ ছিলো কথার লড়াই, উত্তেজনা, মতবিরোধর; এমনকি ছিলো বিরোধী দলের ওয়াকআউটও। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে এখনো সরকারের সাথে বিরোধী দলের রয়ে গেছে মতবিরোধ।
জামায়াত নেতারা বলছেন, গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে সরকার যাত্রাপথেই ভুল করেছে। এর মাধ্যমে, 'হ্যাঁ' ভোট দেয়া বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং বিরোধী দলের আস্থা হারিয়েছে সরকার। গণতান্ত্রিক সরকার হয়েও স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ বিএনপির আরেক অগণতান্ত্রিক আচরণ, দাবি করছেন জামায়াত নেতারা। জানান, অব্যাহত চাঁদাবাজি আর আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখা মূলত ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার আরও একটি ধাপ।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, 'এই ৩ মাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, দেশটা বোধহয় ভালো পথে যাচ্ছে না। এজন্য যে উদ্যোগ থাকা দরকার, তা আমাদের কাছে দৃশ্যমান নয়।'
আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই অনেক কার্যকলাপ চলমান উল্লেখ করে, চাঁদাবাজি বন্ধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ফের আরও একটি বড় আন্দোলনের দিকে ধাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, 'এই সরকার একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে যাচ্ছে। যে লক্ষ্য নিয়ে বিপ্লব করা হয়েছিল তা এখনও পূর্ণ হয়নি।'
তবে, বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে বলেই দাবি করছেন জামায়াত নেতারা। জনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রতিরোধের পাশাপাশি তাতে অংশ না নেয়ার ব্যাপারেও তারা অনড়। তবে, সরকারের জনকল্যাণকর সিদ্ধান্তে সহায়তার অনেক উদাহরণ রয়েছে, এমন দাবি তাদের।
কামাল হোসেন বলেন, 'জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট সঠিক পথেই আছে। সরকারের অগণতান্ত্রিক ও ন্যায্যতা বিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তে আমরা প্রতিবাদ করবো'
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, 'সরকারের ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করবো। খারাপ কাজে বিরুদ্ধে অবস্থানপূর্বক তা সংশোধনের জন্য কাজ করবো'
নেতারা বলছেন, সার্বিকভাবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নিজস্ব চিন্তাধারা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত রেখেছে দলটি।