Image description

কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে ‘হা-হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ হামলায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় সৈয়দা খাতুন নামে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।

 

শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদরের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৈয়দা খাতুন ওই এলাকার সব্বির আহমেদের স্ত্রী।

 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান জানান, স্থানীয় একটি মাদরাসার দেয়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন নিয়ে বিএনপি সমর্থক আকাশ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে স্থানীয় এক যুবকের আইডি থেকে ‘হা-হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আকাশ জানতে চাইলে ওই যুবক দাবি করেন, ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি তিনি নয়, তার স্ত্রী ব্যবহার করেন।

 

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই যুবকের দূরসম্পর্কের খালা সৈয়দা খাতুন আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা যুবকের নাম মোহাম্মদ ইউনুস। নিহত সৈয়দা খাতুনের ছেলে আব্দুর রহমান প্রকাশ ইমরান তার বাল্যবন্ধু।

 

ইমরানের অভিযোগ, তিনি ও তার বন্ধু ইউনুস স্টেশনের একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম ও তার ছেলে আকাশ, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার, শ্রমিকদল নেতা সাইফুল সিকদারসহ ১০ থেকে ১২ জন তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তার মা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন।

 

ইমরান বলেন, 'আমার মাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।'

 

তবে ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। জিসান সিকদার বলেন, 'ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ছিলাম। আমার বাবাকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।'

 

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে টাইপালংয়ের একটি মাদরাসার দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। অভিযোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ইমরান, ইউনুসসহ একটি পক্ষ ফেসবুকে দাবি করে আসছিল, মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানির চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।

 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।