Image description

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন বিএনপির এক নেতাসহ চার সচ্ছল পরিবার। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অবশেষে প্রশাসনের নির্দেশে ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছে ওই চার পরিবার।

ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা নেওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন– আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মণ, একই ইউনিয়নের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে শামসুল হক, নৃপেন্দ্র নাথ রায়ের মেয়ে গোলাপী রানী ও দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে শংকর কুমার রায়। এদের মধ্যে দধি প্রসাদ বর্মণের রয়েছে ছাদ পেটানো পাকা ভবন। শংকর কুমার রায়ের টিনশেড আধা পাকা বাড়ি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে ত্রাণ সহায়তা চেয়ে তারা লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী- কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের কাছে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। গত রোববার তাদের পরিবার প্রতি এক বান্ডিল ঢেউটিন ও অনুদান হিসেবে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়।

 

 

 

এ নিয়ে স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে শংকর কুমার রায়, শামসুল হক, দধি প্রসাদ বর্মণ ও গোলাপী রানীকে অবস্থাপন্ন গৃহস্থ হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিলে সমালোচনা শুরু হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার তারা ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেন।

বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মণ বলেন, ছাদ পেটানো পাকা বাড়ি তাঁর ছেলের। সম্প্রতি শিলাবৃষ্টিতে তাঁর নিজের টিনের ঘর  ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহায়তা চেয়ে এমপির কাছে আবেদন করেন তিনি। ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা পেলেও পরে তা ফেরত দেওয়া হয়।

অপর সুবিধাভোগী শংকর কুমার রায় বলেন, ‘সবসময় কি আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে। যারা আমাকে টিন ও অনুদানের টাকা দিয়েছে, তাদের নির্দেশমতে আবার ফেরত দিয়েছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গোলাপী রানীর স্বামী গোবিন্দ রায় বলেন, ‘আবেদন করে বরাদ্দ পেয়েছিলাম। পরে বিভিন্ন সমালোচনার কারণে টিন ও টাকা ফেরত দিয়েছি। মানুষ শুধু ওপরের দিকটা দেখে, ভেতরের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন না।’

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ভুল স্বীকার করে ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা অফিসে ফেরত দিয়েছেন। ভুল স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ভবিষ্যতে আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ অন্যদের একাধিক সূত্রে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।